প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের এই সরকারি-পর্যায়ের চুক্তিটি বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ‘অ্যাকুইজিশন উইং’ (ক্রয় বিভাগ) এবং ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) পর্যালোচনা করছে। গত মে মাসে ভারতের পাঠানো ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ (LoR)-এর প্রেক্ষিতে এই প্রস্তাবটি এসেছে এবং এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় উপাদানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে ফ্রান্স ভারতের কাছে তাদের বিস্তারিত কারিগরি ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার কর্মসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের এই সরকারি-পর্যায়ের (government-to-government) চুক্তিটি বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ‘অ্যাকুইজিশন উইং’ (ক্রয় বিভাগ) এবং ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) পর্যালোচনা করছে। চলতি বছরের মে মাসে ভারতের পাঠানো ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ (LoR)-এর প্রেক্ষিতে এই প্রস্তাবটি এসেছে এবং এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় উপাদানের ব্যবহারের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফরাসি প্রস্তাবের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল ১১৪টি রাফাল জেটের মধ্যে ৯৪টিই ভারতের কোনও শিল্প-অংশীদারের মাধ্যমে এদেশেই তৈরি করার পরিকল্পনা। এই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দাসো এভিয়েশন (Dassault Aviation)-এর পাশাপাশি ফ্রান্সের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এমবিডিএ (MBDA), সাফরান (Safran) এবং থ্যালেস (Thales)-এর অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পটি ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ব্যবস্থাকে (অ্যারোস্পেস ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেম) উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে টাটা (Tata), লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (Larsen & Toubro)-র মতো বড় কোম্পানি এবং অন্যান্য দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতাদের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হবে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১.৬ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা সৃষ্টি হতে পারে।
দেশীয় অস্ত্র ও স্থানীয় উপাদানের বিষয়টি পর্যালোচনার অধীনে
রাফাল প্ল্যাটফর্মে দেশীয় অস্ত্র ব্যবস্থা—বিশেষ করে ‘অস্ত্র’ (Astra) বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ (BVR) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলের বিভিন্ন সংস্করণ সংযোজনের বিষয়ে ফরাসি প্রস্তাবে কী কী শর্ত রয়েছে, তা ভারতীয় পক্ষ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং বিদেশি সামরিক সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে সরকারের যে উদ্যোগ রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্তারা এই চুক্তির আওতায় দেশীয়করণের (indigenisation) মাত্রাটিও মূল্যায়ন করবেন।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
পুরনো মিগ (MiG) যুদ্ধবিমানগুলোকে পর্যায়ক্রমে অবসরে পাঠানো এবং এলসিএ এমকে১এ (LCA Mk1A) ও আসন্ন এলসিএ এমকে২ (LCA Mk2)-এর মতো দেশীয় বিমান অন্তর্ভুক্তিতে বিলম্বের ফলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন সংখ্যা কমে গেছে। রাফাল কেনার লক্ষ্য হল সেই ঘাটতি পূরণ করা। ২০১২ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রাফালকে নির্বাচন করেছিল এবং তখন থেকেই এটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে যে পর্যালোচনা শুরু করেছিলেন, তার প্রেক্ষিতেই প্রায় পাঁচ মাস আগে ‘ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল’ (প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় সংক্রান্ত পরিষদ) ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
ভারতের রাফাল বহর বাড়তে চলেছে
ভারতীয় বিমানবাহিনী এবং ভারতীয় নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই ৬২টি রাফাল বিমানের জন্য অর্ডার দিয়েছে। প্রস্তাবিত এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ভারতের রাফাল বিমানের সংখ্যা বেড়ে ১৭৬-এ দাঁড়াবে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনী আরও ৩১টি ‘রাফাল-এম’ (Rafale-M) যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রাফাল বিমানের মোট সংখ্যা ২০০-এর বেশি হতে পারে।


