কেন্দ্র সরকার 'জনগণনা ২০২৭'-এর জনগণনার পর্যায়ের জন্য ৪০টি প্রশ্ন নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতি (caste), তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST)-র মর্যাদা এবং কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার স্থানের মতো বিষয়গুলো। প্রথমবারের মতো জনগণনার অংশ হিসেবে জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্নাবলীতে সম্ভবত কোনও নির্দিষ্ট জাতির তালিকা দেওয়া থাকবে না।

কেন্দ্র সরকার 'জনগণনা ২০২৭'-এর জনগণনার পর্যায়ের জন্য ৪০টি প্রশ্ন নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতি (caste), তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST)-র মর্যাদা এবং কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার স্থানের মতো বিষয়গুলো। পূর্ববর্তী একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত ও 'নন-সিনক্রোনাস' (যেখানে সাধারণ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গণনা করা সম্ভব নয় এমন) এলাকাগুলোতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে জনসংখ্যা গণনা শুরু হবে। এই এলাকাগুলোতে গণনা কার্যক্রম ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে বলা হয়েছে, উক্ত জনগণনা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা শুরুর ঠিক আগে, ১৭ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত 'স্ব-গণনা' (self-enumeration)-র একটি বিকল্প ব্যবস্থা থাকবে। দেশের বাকি অংশে জনসংখ্যা গণনা আগামী বছর শুরু হবে।

'জনগণনা ২০২৭'-এর মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো জনগণনার অংশ হিসেবে জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্নাবলীতে সম্ভবত কোনও নির্দিষ্ট জাতির তালিকা দেওয়া থাকবে না। বরং উত্তরদাতারা যেভাবে জানাবেন, সেভাবেই তথ্য নথিভুক্ত করা হবে। জাতিগত তথ্য সংগ্রহের এই সিদ্ধান্তটি গত বছরের ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে গঠিত 'ক্যাবিনেট কমিটি অন পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স' নিয়েছিল।

ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "'সেন্সাস অ্যাক্ট, ১৯৪৮' (১৯৪৮ সালের ৩৭ নম্বর আইন)-এর ৮ নম্বর ধারার উপ-ধারা (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতার বলে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশ দিচ্ছে যে, জনগণনা আধিকারিকরা তাঁদের নিজ নিজ নিযুক্ত এলাকার সীমানার মধ্যে বসবাসকারী সকল ব্যক্তিকে—নীচে উল্লিখিত বিষয়গুলোর ভিত্তিতে—'জনগণনা ভারত ২০২৭'-এর জন্য 'হাউসহোল্ড শিডিউল' বা পারিবারিক তথ্যসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারবেন।"

'জনগণনা ২০২৭'-এর প্রশ্নাবলীতে কী কী বিষয় থাকবে?

এই ৪০টি প্রশ্নের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে বৈবাহিক অবস্থা, বিয়ের সময় বয়স, জীবনসঙ্গীর নাম, জাতীয়তা, ধর্ম, SC/ST মর্যাদা, জাতি, পিতা-মাতার বিবরণ, শারীরিক অক্ষমতা, মাতৃভাষা ও জানা অন্যান্য ভাষা, সাক্ষরতা এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা। এছাড়া উত্তরদাতাদের কাছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি, সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পড়াশোনার বিষয় বা শাখার (stream and discipline) বিষয়েও জানতে চাওয়া হবে। প্রশ্নাবলীতে কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে; যেমন—গত এক বছরের মধ্যে কোনও ব্যক্তি কাজ করেছেন কি না, অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ধরন, পেশা, শিল্প বা পরিষেবার প্রকৃতি এবং কর্মীর শ্রেণিবিভাগ।

প্রান্তিক (marginal), আধা-প্রান্তিক (semi-marginal) এবং যারা কোনও অর্থনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নন (non-workers), তাদের ক্ষেত্রে প্রশ্নগুলো মূলত অ-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং কাজের জন্য উপলব্ধতা বা আগ্রহের উপর ভিত্তি করে হবে। এছাড়া উত্তরদাতাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে যে তাঁরা কাজের জায়গায় যাতায়াত করেন কি না। গণনার সময় জন্মস্থান, সর্বশেষ বসবাসের স্থান, স্থানান্তরের কারণ, সর্বশেষ স্থানান্তরের পর থেকে গ্রাম বা শহরে অবস্থানের সময়কাল এবং স্থায়ী আবাসিক ঠিকানাও নথিভুক্ত করা হবে। বিবাহিত, বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্ন এবং স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন মহিলাদের কাছে তাঁদের জীবিত সন্তানের সংখ্যা, বর্তমান বিবাহ থেকে হওয়া সন্তান এবং গত এক বছরে জীবিত জন্ম নেওয়া সন্তানের সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে।

উত্তরদাতাদের কাছে কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার স্থান, মোট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা, মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর, ভোটার আইডি নম্বর এবং পাসপোর্ট নম্বর সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হবে। এছাড়া উত্তরদাতার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না, তাও প্রশ্নাবলীতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আদমশুমারি প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল

জনসংখ্যা গণনার কাজ সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। ২০২৭ সালের আদমশুমারির প্রথম পর্যায়—অর্থাৎ গৃহ তালিকাভুক্তি ও গৃহশুমারি (HLO)—৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। বেশ কয়েকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১৬ এপ্রিল থেকেই গৃহ তালিকাভুক্তি ও গৃহশুমারির জন্য সরেজমিন পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ে, গণনাকারীরা জনসংখ্যা গণনার ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে সারা দেশজুড়ে বিভিন্ন কাঠামো, বাড়ি এবং পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করছেন।

কী কী প্রশ্ন করা হবে?

  • ১. ব্যক্তির নাম
  • ২. পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক
  • ৩. লিঙ্গ
  • ৪. জন্ম তারিখ ও বয়স (পূর্ণ বছরে)
  • ৫. বর্তমান বৈবাহিক অবস্থা
  • ৬. বিয়ের সময় বয়স (পূর্ণ বছরে)
  • ৭. স্বামী বা স্ত্রীর নাম
  • ৮. ঘোষিত জাতীয়তা
  • ৯. ধর্ম
  • ১০. তফসিলি জাতি (SC)/ তফসিলি উপজাতি (ST)/ জাতি
  • ১১. পিতার বিবরণ
  • ১২. মাতার বিবরণ
  • ১৩. শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা (প্রতিবন্ধকতা)
  • ১৪. মাতৃভাষা ও জানা অন্যান্য ভাষা
  • ১৫. সাক্ষরতা ও ডিজিটাল সাক্ষরতার অবস্থা
  • ১৬. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির অবস্থা
  • ১৭. অর্জিত সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিভাগ/বিষয় (স্ট্রিম/ডিসিপ্লিন)
  • ১৮. গত এক বছরের মধ্যে কোনও সময় কাজ করেছেন কি না
  • ১৯. অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ধরন
  • ২০. পেশা
  • ২১. শিল্প, বাণিজ্য বা পরিষেবার প্রকৃতি
  • ২২. কর্মীর শ্রেণি
  • ২৩. অ-অর্থনৈতিক কার্যকলাপ (প্রান্তিক, আধা-প্রান্তিক এবং অ-কর্মীদের জন্য)
  • ২৪. কাজের সন্ধান বা কাজের জন্য প্রাপ্যতা (প্রান্তিক, আধা-প্রান্তিক এবং অ-কর্মীদের জন্য)
  • ২৫. কর্মস্থলে যাতায়াত
  • ২৬. জন্মস্থান
  • ২৭. সর্বশেষ বসবাসের স্থান
  • ২৮. স্থানান্তরের কারণ
  • ২৯. সর্বশেষ স্থানান্তরের পর থেকে এই গ্রাম/শহরে অবস্থানের সময়কাল
  • ৩০. স্থায়ী আবাসিক ঠিকানা
  • ৩১. বর্তমানে জীবিত সন্তানের সংখ্যা (শুধুমাত্র বিবাহিত, বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন মহিলাদের জন্য)
  • ৩২. আজ পর্যন্ত জীবিত জন্ম নেওয়া সন্তানের সংখ্যা (শুধুমাত্র বিবাহিত, বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন মহিলাদের জন্য)
  • ৩৩. গত এক বছরে জীবিত জন্ম নেওয়া সন্তানের সংখ্যা (শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলাদের জন্য)
  • ৩৪. কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার স্থান
  • ৩৫. মোট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা
  • ৩৬. মোবাইল নম্বর (যদি থাকে)
  • ৩৭. আধার নম্বর (যদি থাকে)
  • ৩৮. ভোটার আইডি নম্বর (যদি থাকে)
  • ৩৯. পাসপোর্ট নম্বর (ভারতীয় পাসপোর্টধারী হলে)
  • ৪০. ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না