কাশ্মীরে মধ্যস্থতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি আগেই সরকারিভাবে খারিজ করেছিল ভারত। এবার সরকারি নথিতেই প্রমাণিত হল, জাপানের ওসাকায় জি- ২০ সম্মেলন চলার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাশ্মীর নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি মার্কিন প্রেসিডেন্টের। 

জি- ২০ বৈঠকে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে দুই দেশ যে নথি লিপিবদ্ধ করেছিল, তাতেই কাশ্মীর নিয়ে কোনও কথারই উল্লেখ নেই বলে একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। জাপানে জি- ২০ শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন এই প্রস্তাব তিনি পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই দাবি করার পর পরই ভারতের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে তার বিরোধিতা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এ বিষয়ে মুখ না খুললেও বুধবার সংসদে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়ে দেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন কোনও অনুরোধ করেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। চাপে পড়ে পিছু হটে আমেরিকাও। হোয়াইট হাউজ থেকে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, কাশ্মীর ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা। প্রস্তাব পেলে তবেই আমেরিকা মধ্যস্থতা করতে রাজি। 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবির পরেই ওসাকায় জি-২০ শীর্ষ বৈঠক চলার সময় ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে লিপিবদ্ধ হওয়া আলোচনার সরকারি নথি খতিয়ে দেখেন ভারতীয় আধিকারিকরা। সেখানেও এমন কোনও প্রস্তাবের কথা উল্লেখ নেই বলেই সরকারি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের আধিকারিকরাও নিজেদের নথি খতিয়ে দেখে এমন কোনও প্রস্তাব খুঁজে পাননি বলে ভারত সরকারের আধিকারিকদের জানিয়ে দিয়েছেন বলেই খবর। 

আরও দাবি করা হচ্ছে, ওসাকায় মোদী এবং ট্রাম্পের মধ্যে মুখোমুখি কোনও বৈঠক হয়নি। সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে হাজির ছিলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। এর পরে ভারত, আমেরিকা এবং জাপানের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের শেষে দু' জনেই পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে নিজেদের নির্দিষ্ট ঘরে চলে যান। সেই সময় সেখানে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। মোদী এবং ট্রাম্প একসঙ্গে ছবিও তোলেন। 

আরও পড়ুন- মোদীর কোলে এই একরত্তি আসলে কে! মুহূর্তে ইন্টারনেটে ভাইরাল ছবি

ভারত এবং আমেরিকার যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ট ট্রাম্প ছাড়াও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং আমেরিকার সেক্রেটারি অফ স্টেট মাইক পমপিও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও  দু' দেশের শীর্ষ আমলারাও সেখানে ছিলেন। ওই বৈঠকের আগে কিছুটা স্বভাববিরুদ্ধ ভাবেই বৈঠকের চারটি আলোচ্য বিষয়বস্তু ঠিক করে নিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেগুলি হল ইরান নিয়ে আলোচনা, দ্বিপাক্ষিক বিষয়বস্তু, ৫জি এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক আলোচনা। গোটা বৈঠকটাই ক্যামেরায় তুলে রাখা হয়। 

শুধু তাই নয়, সময়ের অভাবে ওই বৈঠকে প্রতিরক্ষা বিষয়ক চুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনাও করা সম্ভব হয়নি। 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির স্বপক্ষে পেশ করার মতো প্রমাণ যে তাঁদের হাতে নেই, তা আড়ালে স্বীকার করে নিচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সরকারি কর্তারা। সেরকমই এক সূত্র জানিয়েছেন, 'কোনওভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুল করেই এমন দাবি করে ফেলেছেন। তাঁর ওই বক্তব্যের পর থেকেই প্রেসিডেন্টের সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে আসল ঘটনা তুলে ধরতে যথেষ্টই বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।'

আরও পড়ুন- ডোনাল্ড ট্রাম্প কি মিথ্যে বলছেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জবাব চাইলেন অধীর, সৌগত

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের আর এক আধিকারিক জানান, 'আমরা বিশ্বাস করি ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যে কোনও আলোচনা শুরুর মূল শর্তই হল নিজেদের মাটিতে  জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ধারাবাহিক পদক্ষেপ। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা পালন করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানও দায়বদ্ধ। দু' দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে যা করণীয়, আমেরিকা তা সবসময় ককরবে। কিন্তু তার প্রাথমিক শর্তই হল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ। প্রেসিডেন্টের ইঙ্গিত মতোই আমরা সবসময়ে সাহায্যে তৈরি।'