করোনাভাইরাসের কারণে বদলে গেছে অনেক কিছু। ২১ শতকেও প্রায় গোটা বিশ্বকেই ঘরবন্দি করেছে রেখেছে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই জীবানুটি। এবার এই জীবানুর সংক্রমণ এড়াতে বদল করা হতে পারে ভারত সরকারের কর্মীদের জীবনও। সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী মন্ত্রক। বুধবারই একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে মন্ত্রকের তরফ থেকে। যেখানে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীরা বছরে ১৫ দিন বাড়ি থেকে কাজ করতে পারবেন। 

সেই সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় সচিবালয় কর্মস্থলে  নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে অদূর ভবিষ্যতেই এই প্রক্রিয়া চালু করতে চলেছে। হাজিরা ও কর্মঘণ্টা একই রাখা হবে বলেও জানান হয়েছে। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্ম ও পাব্লিক গ্রিভান্স দফতরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সমস্ত ফাইল গুলি ই অফিসে স্থানান্তরিত করতে হবে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার জন্য ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে। ঘূর্ণমান পদ্ধতিতে কর্মীদের ল্যাপটপ সরবরাহের পাশাপাশি কর্মীদের লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সার্কুলারে সমস্ত মন্ত্রককেই বাড়ি থেকে কাজের জন্য ই-অফিস কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ৭৫টি মন্ত্রক ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে বলেও জানান হয়েছে। ৫৭ টি মন্ত্রক ৮০ শতাংশ কাজ এগিয়ে নিয়ে গেছে। কর্মপদ্ধতির জটিলতা দূর করতে সুরক্ষিত নেটওয়ার্কে ইফইলগুলি দূরবর্তী স্থান থেকে অ্যাক্সেস করার জন্য ডিওপিটি সেকশন অফিসার স্তরে ভিপিএ থেকে অ্যাক্সের প্রস্তাব করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এটি উপসচিব ও পদস্থ আধিকারিকদের মধ্যেই উপলব্দ করা ছিল।   

কিন্তু দেশের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সকলের ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে কাজ এই পদ্ধতি কার্যকর করা যাবে না । কারণ কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যেসব কর্মী ক্ল্যাসিফায়েড ফাইল নিয়ে কাজ করেন তাঁরা সেগুলিকে ইন্টারনেটে প্রবেশ করাতে পারবেন না। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকাতেও তেমনই বলা হয়েছে শ্রেণিবদ্ধ ফাইল নিয়ে যেসব কর্মীরা কাজ করেন তাঁরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। 

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে বাড়ি থেকে কাজের জন্য কর্মীকে সবসময় ফোনে সবসময় উপলব্ধ হতে হবে। শীর্ষ কর্তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য এসএমএস-এক ব্যবস্থা রাখতে হবে। আগামী ২১ মে-র মধ্যে সার্কুলারের উত্তর দিতে বলা হয়েছে সমস্ত মন্ত্রককে।