দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এরমধ্যে রাজধানী দিল্লিতেই আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ১৯০ জন। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,১০৮। তব ভাল খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে কোনও মৃত্যুর খবর নেই। ফলে রাজধানীতের মৃতের সংখ্যা রয়েছে ৫৪। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৮৭৭ জন।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশে চলা দ্বিতীয় দফার লকডাউন শেষ হওয়ার কথা ৩ মে। তারপর লকডাউনের মেয়াদ বাড়বে কিনা তা নিয়ে এখন জোড় আলোচনা চলছে। তবে সোমবার ভিডিও কনফারেন্সে অধিকাংশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও লকডাউন বৃদ্ধির পথেই বলে জানা যাচ্ছে। তবে লকডাউন বৃদ্ধির ঘোষণার আগেই এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল দিল্লি সংলগ্ন গুরগ্রামের মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটির সিইও ভি এস কুণ্ডু।

আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ১০ লক্ষ, জার্মানির মত চিনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবির পথে ট্রাম্প

আরও পড়ুন: করোনার ভ্যাকসিনের সঙ্গে এবার বাংলার যোগ, অক্সফোর্ডের গবেষক দলের সদস্য কলকাতার মেয়ে

আরও পড়ুন: এবার করোনা কেড়ে নিল রাজ্যের আরও এক চিকিৎসককে, লড়াই শেষ স্বনামধন্য অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞের

গুরগ্রামে অবস্থিত বহুজাতিক সংস্থা, বিপিও , তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি তাঁদের কর্মীদের জুলাই মাসের শেষপর্যন্ত ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার অনুমতি দিক। পরামর্শ দিলেন  গুরগ্রাম মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটির সিইও ভি এস কুণ্ডু। শ্রী কুণ্ডু গুরগ্রাম মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটির সিইও হওয়ার পাশাপাশি হরিয়ানার অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, ডিএলএফ সহ একাধিক রিয়েল এস্টেট প্রকল্পগুলিকে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য প্রশাসন সবুজ সংকেত দিলেও তাদের সামাজিক দূরত্বের বিধি কঠোর ভাবে মেনে এগোতে হবে। 

অত্যাবশ্যক নয় এবং এবং রুটিন অফিসের কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জুলাই পর্যন্ত ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতেই পারেন। শ্রী কুণ্ড একথা বলেলও, এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত, কোনও উপদেশনামা নয় সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। 

গুরগাঁও মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটির সিইও হিসাবে তাঁর বক্তব্য, "যা পরিস্থিতি তাতে মনে হচ্ছে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ওয়ার্ক  ফ্রম হোম  জারি থাকবে। গুরগাঁওতে  যাদের অফিস রয়েছে তাদের উচিত যতদিন সম্ভব কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করিয়ে নেওয়া।" করোনা ভাইরাসের এই সংকটকালে কুন্ডুর উপরই দায়িত্ব রয়েছে গুরগাঁও জেলার, তার পরামর্শ যতদিন পারা যায় কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করানো হোক। তবে উৎপাদন ক্ষেত্রে এমনটা সম্ভব না হলেও মানা হোক নিয়ম।

যদিও পরবর্তী সময়ে  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিবৃতি জারি করে বলা হয়,” এটা শ্রী কুণ্ডুর ব্যক্তিগত অভিমত, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন এবং রুটিন কাজের জন্য গুরগ্রামে অফিস গুলির কর্মীদের জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে কাজ করানো হোক,  এই রকম কোনোও নির্দেশ বা উপদেশনামা সরকারের পক্ষ থেকে ইস্যু করা হয়নি।” কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের নির্দেশ ‌ গুরগ্রামেতে মানা হচ্ছে বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

গুরগ্রাম ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওনের  অংশ বিশেষ, পরিচিত মিলেনিয়াম সিটি হিসেবেই।  এখানে বহু বিপিও, এমএনসি , ইনফোসিস, জেননপ্যাক্ট, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থার অফিস রয়েছে। গুরগ্রাম জেলা প্রশাসন মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এক উপদেশনামা জারি করে এমএনসি, বিপিও, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, কর্পোরেট এবং শিল্প সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছিল, কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোম করাতে।