Energy Crisis: পশ্চিম এশিয়ার সংকটের মাঝেও ভারতে জ্বালানির কোনো অভাব হবে না, এই আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। তিনি জানিয়েছেন, বাড়ির রান্নার গ্যাস ও গাড়ির CNG সরবরাহ পুরোপুরি সুরক্ষিত এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংকটের মধ্যেও ভারতে সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির কোনো অভাব হবে না। মঙ্গলবার এই আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। তিনি জানিয়েছেন, বাড়িতে রান্নার জন্য পাইপলাইনের গ্যাস (PNG) এবং গাড়ির জন্য CNG-র সরবরাহ পুরোপুরি সুরক্ষিত। শিল্পগুলিও তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানির বেশিরভাগটাই পাচ্ছে। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
ভারতের জ্বালানির অভাব নেই!
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে পুরী বলেন, "আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় আমরা জানিয়েছি যে, বিভিন্ন উৎস এবং রুট দিয়ে ভারতে জ্বালানি আমদানি স্বাভাবিকভাবেই চলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমরা ঘরোয়া গ্রাহকদের জন্য ১০০% CNG ও PNG সরবরাহ নিশ্চিত করেছি। অন্যান্য শিল্পগুলিও তাদের প্রয়োজনের ৭০-৮০% জোগান পাচ্ছে।" পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, “আমরা দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঘরোয়া গ্রাহকদের জন্য কোনো ঘাটতি নেই এবং আতঙ্কিত হওয়ারও কোনো কারণ নেই।”
অত্যাবশ্যক পণ্য
এর আগে এদিনই, দেশের জ্বালানি বাজার সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার অত্যাবশ্যক পণ্য আইন (Essential Commodities Act) জারি করে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমান সরবরাহ সংকট সামাল দিতে এই আইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ির রান্নার গ্যাস এবং গাড়ির CNG-র জন্য ১০০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে, গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের ভিত্তিতে জোগানের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যেমন, চা শিল্প, উৎপাদনকারী সংস্থা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস গ্রিডের মাধ্যমে সংযুক্ত শিল্প গ্রাহকরা তাদের গড় জোগানের ৮০ শতাংশ পাবেন।
একইভাবে, অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রাকৃতিক গ্যাস গ্রাহকদের জন্যও এই সীমা ৮০ শতাংশ রাখা হয়েছে।
সার কারখানাগুলিকে তাদের গত ছয় মাসের গড় জোগানের ৭০ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই পুনর্বণ্টন সহজ করতে শোধনাগার এবং পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ৩৫ শতাংশ কমানো হয়েছে বলে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে।
এই পদক্ষেপগুলি এমন একটা সময়ে নেওয়া হল যখন ভারত তার প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আমদানি করে। কিন্তু ওই অঞ্চলের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই পথে পণ্য পরিবহণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, বর্তমান ঘাটতি মেটাতে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারত বিকল্প বাণিজ্য পথ দিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস কিনছে।


