কাঁপছে উত্তরভারত। গত বেশ কয়েকদিন ধরেই কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের বেশ কিছু অংশে শুষ্ক আবহাওয়া দেখা যাচ্ছিল। রবিবার থেকে আবহাওয়া হঠাতই বদলে গিয়েছে। তিন রাজ্যেরই নিচু এলাকাগুলিতে যেমন বৃষ্টিপাত হয়েছে, তেমনই সোমবার ঘুম ভাঙার পর অপেক্ষাকৃত উঁচু অঞ্চলগুলির বাসিন্দারা মরসুমের প্রথম তুষাড়পাত প্রত্যক্ষ করেছেন।

সিমলার কাছের কুফরি উপত্যকায় এদিন সকালে মরসুমের প্রথম তুষারপাতের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। সিমলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, কুফরিতে ২৪ ঘন্টাতেই ২ মিটারেরও বেশি তুষারপাত হয়েছে।

বেশ কয়েকটি রাস্তা তুষারপাতের কারণে অবরুদ্ধ হলেও সিমলা-কুফরি সড়কে যান চলাচল চালু আছে। এই অবস্থায় কুফরিতে পর্যটকদের ভিড় হতে পারে ভেবে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।

হিমাচলপ্রদেশের মানালি, রোহটাং পাস, কিন্নৌর, চম্বার থেকেও তুষারপাতের খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে লাহুল-স্পিতি জেলা ইতিমধ্যেই তুষারে আবৃত। পাল্লা দিয়ে কমেছে তাপমাত্রাও। তবে, স্পিতি ট্যুরিজম সোসাইটি, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত পর্যটন নিষিদ্ধ করেছে।

মরসুমের প্রথম তুষারপাত পেয়েছে উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলার চোপটা-ও।

রবিবার রাতেই কেদারনাথে তুষারপাত শুরু হয়েছিল। তারমধ্যেই আরতিতে অংশ নিয়েছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এদিন, মন্দিরের দরজা এই বছরের মতো বন্ধ করে নিচে নেমে এলেন পূজারীরা। দুই মুখ্যমন্ত্রীও মন্দিরের দরজা বন্ধের সময় কেদারনাথে উপস্থিত ছিলেন। বদ্রিনাথেও সোমবার সকাল থেকেই তুষাড়পাত শুরু হয়েছে।

 

গত ২৪ ঘন্টায় ব্যাপক তুষারপাত হয়েছে কাশ্মীরেও। গুলমার্গ ও পহেলগামের মতো কাশ্মীর উপত্যকার উচ্চ পার্বত্য এলাকাগুলিতে নতুন করে তুষারপাত হয়েছে এবং বেশিরভাগ সমতলে বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর তার ফলেই কাশ্মীর উপত্যকার তাপমাত্রা হঠাৎ করেই অনেকটা কমে গিয়েছে। খারাপ আবহাওয়া কারণে কুপওয়ারা ও বান্দিপোড়া, গান্দেরবাল, এবং বারমুলা জেলায় মাঝারি থেকে কম মাত্রার তুষারধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ।

রবিবার রাতে সিন্থাম-এর কাছে এক এলাকা থেকে তুষারপাতে আটকে পড়া ১০ অসামরিক নাগরিককে উদ্ধার করেছএ বারতীয় সেনা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সদস্যরা।