আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরের কোরবানির পশুবলি সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন জগদ্গুরু স্বামী শ্রী সতীশাচার্য জি মহারাজ। তিনি বলেছেন, এই ধরনের মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে এবং কবীরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরের পশুবলি সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন জগদ্গুরু স্বামী শ্রী সতীশাচার্য জি মহারাজ। বৃহস্পতিবার তিনি কবীরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সাধুর কোপে হুমায়ুন কবীর

এখানে এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, ওই সাধু কবীরের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। কবীর পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর অধীনে জারি করা একটি সরকারি নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

জগদ্গুরু স্বামী শ্রী সতীশাচার্য জি মহারাজ বলেন, “এরা নিজেদের কী ভাবে যে এমন বিভেদের রাজনীতি করছে?... এদের ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে না কেন?... এটা 'নয়া ভারত'। এখানে যদি কাউকে উস্কানি দেওয়ার বা বিদ্বেষমূলক ধারণা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়, তা বরদাস্ত করা হবে না... আমি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে দাবি করছি, এমন ব্যক্তিকে যেন ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। এই ধরনের লোকদের ফাঁসিই হওয়া উচিত।”

গো-হত্যা নিয়েও কড়া বার্তা দেন ওই সাধু। তিনি সাফ জানান, এই ধরনের কাজ একেবারেই সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, “এই দেশ সনাতনের। সেই নীতি মেনেই আপনাদের চলতে হবে। গরু কাটা বা কোরবানি তো দূরের কথা, এখন গরুর গায়ে একটা আঙুলও তুলতে দেওয়া হবে না। যদি একটাও গরু কাটা হয়, তার ফল খুব খারাপ হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, হুমায়ুন কবীর মুসলিম সম্প্রদায়কে ভুল পথে চালিত করছেন এবং রাজ্যের শান্তি নষ্ট করছেন। ওই সাধু বলেন, “আমার মনে হয় হুমায়ুন কবীর না কোনও প্রথাগত শিক্ষা নিয়েছেন, না তিনি কোরান বা হাদিস পড়েন। তিনি মুসলিমদের ভুল বোঝাচ্ছেন এবং বাংলার শান্তি বিঘ্নিত করছেন।”

হুমায়ুন কবীরের চ্যালেঞ্জ

এর আগে দিনের বেলায়, এজেইউপি প্রধান হুমায়ুন কবীর জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, কোনও আপত্তি বা নিয়ম-কানুন সত্ত্বেও কোরবানি চলবেই। এএনআই-কে কবীর বলেন, “সরকার মুসলিমদের গোমাংস খেতে বারণ করার নিয়ম করতে পারে, কিন্তু কোরবানি চলবেই। আমরা কোনও আপত্তি শুনব না।” তিনি আরও বলেন যে, এই প্রথার একটি ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে এবং এটি বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। কবীর যোগ করেন, “এটা ১৪০০ বছর ধরে চলে আসা একটা ঐতিহ্য এবং যতদিন পৃথিবী থাকবে, ততদিন চলবে।”

এই মন্তব্যগুলি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর অধীনে রাজ্যে পশু জবাই সংক্রান্ত নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা চলছে।