গত ১১ জানুয়ারি জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশের এক ডেপুটি পুলিশ সুপার দাবিন্দর সিং-এর গ্রেফতারিতে সাড়া পড়ে গিয়েছিল গোটা ভারতে। জঙ্গিদমনের অগ্রগন্য এই পুলিশ অফিসার জঙ্গিদের পুলিশের নজর এড়িয়ে সুরক্ষিত জায়গায় পৌঁছে দিতে গিয়ে ধরা পড়েছিল। এবার তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি নেতা 'নাভিদ বাবু'-কে জেরা করতে গিয়ে জঙ্গিদের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পূর্বের জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের এক নির্দল বিধায়কের নাম উঠে এল।

হিজবুল মুজাহিদিন-এর কমান্ডার নাভিদ ওরফে বাবু ওরফে সৈয়দ নাভেদ মুস্তাক আহমেদ বর্তমানে জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ-র হেফাজতে রয়েছে। জেরায় এনআইএ-র তদন্তকারীদের সে জানিয়েছে তার সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের এক নির্দল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। উত্তর কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীটির জন্য একটি দৃঢ় ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার জন্যই সে ওই বিধায়কের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছিল। ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য আস্তানা খুঁজছিল।

দাবিন্দর সিং ও নাভেদ ছাড়াও ওই দিন তাঁদের সঙ্গে রফি আহমেদ রাথার এবং ইরফান শফি মির নামে আরও দুই জঙ্গি গ্রেফতার হয়। মির-ই এই দলটির নেতা বলে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে তাঁদের জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ তাদের বেশ কয়েকদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর এনআইএর হাতে তুলে দেয়।

এনআইএ-র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বেশ কয়েকবার বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন নাভিদ। তবে একটানা জেরায় ক্লান্ত হয়ে শেষে সে তার পরিচিতিদের বিষয়ে কথা বলতে শুরু করে। জানা যায়, তার কাজ ছিল জঙ্গি সদস্য সংগ্রহ করা। তার দেওযা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন হিজবুল সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। সেই সময়ই তার পরিচিত হিসেবে একজন প্রাক্তন নির্দল বিধায়কের নামও করে নাভিদ। পুলিশ অবশ্য ওই নির্দল বিধায়কের নাম প্রকাশ করেনি। পূর্ববর্তী জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য বিধানসভায় তিনজন নির্দল বিধায়ক ছিলেন।


গত ২৩ জানুয়ারি, নাভিদের ভাই সৈয়দ ইরফান আহমেদকে পঞ্জাব থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নাভিদ জানিয়েছে উপত্যকায় পুলিশকে এড়াতে তাররা সাধারণত পাহাড়ি অঞ্চলে থাকত। কঠোর শীত থেকে বাঁচতে শীতের মাসগুলিতে অন্যত্র চলে যেত। এবার চন্ডীগড়ে কোথাও ওঠার পরিকল্পনা করেছিল নাভিদ। তার জন্যই ভাইয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল সে। গত বছরও দাবিন্দর সিং, নাভিদ 'বাবু'কে শাতের সময় জম্মু-তে নিয়ে গিয়েছিল, শীত কেটে গেলে আবার নিরাপদে শোপিয়ানে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।