উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিকাশ দুবেকে ধরতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়েছিল কানপুর পুলিশ। কিন্কু তাঁদের এই অভিযানের কথা আগেই জেনে গিয়েছিল গ্যাংস্টার। তাই শাগরেদদের নিয়ে পুরোদমে প্রস্তুত ছিল বিকাশ। শুক্রবার ভোররাতে কানপুরের চৌবেপুর থানার ডিক্রু গ্রামে তাই পুলিশ ঢুকতেই তাদের লক্ষ্য করে শুরু হয় গুলি বর্ষণ। তাতে শহিদ হন ডেপুটি পুলিশ সুপার দেবেন্দ্র মিশ্র সহ মোট ৮ জন পুলিশকর্মী। এই ঘটনা ঘিরে এখন উত্তাল গোটা উত্তরপ্রদেশ। যোগী সরকারের আমলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়েও উঠে গিয়েছে প্রশাসন। এই অবস্থায় কুখ্যাত বিকাশ দুবের আস্তানায় এবার বুলডোজার চালাল স্থানীয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন: যোগীরাজ্যে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ডিএসপি সহ ৮ পুলিশকর্মীর

কানপুরের দেহাত এলাকায় ডিক্রু গ্রামেই জন্ম বিকাশের। এখানেই রয়েছে তার পৈত্রিক বাড়ি। সেখান থেকেই শুক্রবার সকালে বিকাশ ও তার দলবল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। এই গ্রামের যুব সম্প্রদায় কার্যত বিকাশের কথাতেই কাজ করে। তবে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় এখন চাপে প্রশাসন। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা বলেছন যোগী। জোরকদমে চলছে তদন্ত। অভিযুক্তদের খুজতে উত্তরপ্রদেশের সীমানাও সিল করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় শনিবার বিকাশের সাম্রাজ্যই কার্যত গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। 

 

এদিকে বিকাশ ও তার দলবলের হাতে ৮ পুলিশকর্মী প্রাণ হারানোর পর থেকেও কুখ্যাত গ্যাংস্টারের পরিবারের বাকি সদস্যদের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে গিয়েছে। প্রতিবেশীদের কটাক্ষের পাশাপাশি রয়েছে পুলিশের জেরা। ফলে পদে পদে সম্মান খোয়াতে হচ্ছে বিকাশ দুবের মা-সহ অন্যদের। এই পরিস্থিতিতে কৃতকর্মের জন্য ছেলের মৃত্যুকামনা করলেন বিকাশের মা সরলা দেবী। 

বৃদ্ধা সরলাদেবী স্পষ্ট বলছেন, "ভালো হবে যদি ও নিজে অত্মসমর্পণ করে। পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে পালাতে থাকলে ওকে এনকাউন্টার করে মারা হোক। আমিও বলবো ওকে ধরো এবং এনকাউন্টার করে মেরে ফেলো।সারা জীবন অনেক পাপ করেছে ও। নির্দোষ পুলিশদের হত্যা করে জঘন্য অন্যায় করেছেয ওর চরম শাস্তিই হওয়া উচিত।"

আরও পড়ুন: কানপুরের পুলিশ খুনি বিকাশ দুবে গুলি করে হত্যা করেছিল মন্ত্রীকেও, গ্যাংস্টারের নামে রয়েছে ৬০টি মামলা

ছেলের অতীত নিয়েও কথা বলেছেন সরলাদেবী। উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সংস্পর্শে এসেই বিকাশের অপরাধ জগতে হাতেখড়ি এমনটাই জানাচ্ছেন তার মা। বৃদ্ধা জানান, এমন ছেলের জন্য তিনি লজ্জিত। গত ৪ মাস হল বিকাশের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। লখনউতে ছোট ছেলের কাছেই  থাকেন তিনি।