সোমবার জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ঘনিষ্ঠ ১৯ জন বিধায়ক চুপিসারে ভোপাল থেকে বেঙ্গালুরু চলে যাওয়ার পর থেকে সকলেরই জানা ছিল কংগ্রেসে ভাঙনটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু সত্যি সত্যিই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কংগ্রেস ছেড়ে চলে যাবেন তা অনেকেই মন থেকে বিশ্বাস করতে পারেননি। কিন্তু, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে বৈঠকের পরই কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তারপর, কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেছেন, 'লোভ মানুষকে কোন জায়গায় নিয়ে যায়'। কিন্তু কিসের লোভে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপির পথে সিন্ধিয়া? কী পাচ্ছেন তিনি? কীভাবেই বা এটা সম্ভব হল?

জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার বন্ধুবান্ধব এবং নিকটাত্মীয়দের দাবি কংগ্রেস মধ্যপ্রদেশে সিন্ধিয়া-কে রাজ্যসভার প্রথম টিকিট না দিলেও বিজেপি দল তাঁকে সেই টিকিট দিতে চলেছে। তারপর সম্ভবত তাঁকে কেন্দ্রীয় কোনও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশে যদি বিজেপি সরকার গঠন করতে সফল হয়, যা এদিনের পর একরকম নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে, সেই ক্ষেত্রে জ্যোতিরাদিত্যের মনোনীত কোনও ব্যক্তিকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হবে।

আরও জানা গিয়েছে, এদিন আচমকাই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া পদত্যাগ করলেও, গত দু'মাস ধরেই বিজেপিতে যোগদানের বিকল্প নিয়ে ভাবনা চিন্তা করছিলেন তিনি। ঘনিষ্ঠ মহলে এই নিয়ে আলোচনাও করেন। বিজেপি নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন। গত সপ্তাহে, ১০ জন কংগ্রেস বিধায়ক আচমকা উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। বিজেপি তাঁদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত করছে ধুয়ো তুলে তারদের মধ্যে ৮ জনকে ফিরিয়ে আনেন দিগ্বিজয় সিং। তাতেও দমেননি সিন্ধিয়া, বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন।

গত ৬ মার্চ নয়াদিল্লিতে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডার ছেলের বিয়েতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, পীযূষ গয়াল, নরেন্দ্র সিং তোমর, ধর্মেন্দ্র প্রধান সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সহকর্মীদের মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস জ্যোতিরাদিত্য গোষ্ঠীর এই উড়ু উড়ু ভাব নিয়ে জানিয়েছিলেন। তিন দিন পর, গত সোমবার সন্ধ্যায়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন সর্বভাব়তীয় সবাপতি অমিত শাহ বিজেপি-তে সিন্ধিয়ার প্রবেশের বিষয়টিতে সিলমোহর দেন।

আর তারপর এদিন সকালে একেবারে জ্যোতিরাদিত্যকে সঙ্গে করে নিয়ে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে। এদিন সন্ধ্যায় বিজেপির শীর্ষ নেতারা মধ্যপ্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠকেই জ্যোতিরাদিত্য বিজেপি-তে যোগ দেবেন শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু তা হয়নি। তবে খুব শিগগিরই গেরুয়া শিবিরে দেখা যাবে তাঁকে।