Human Testicles: সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলেই এখন হাজারো 'রিলস' আর ভিডিও-র ভিড়। ভিউ পাওয়ার এই উদগ্র বাসনায় মাঝেমধ্যেই দাপিয়ে বেড়ায় নানা ভুয়ো খবর। কিন্তু একটি সস্তা ভিডিওর প্রভাবে যে মানুষ পশুর পর্যায়ে নেমে গিয়ে খুন পর্যন্ত করতে পারে প্রমাণ ভোপালে।
Human Testicles: সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলেই এখন হাজারো 'রিলস' আর ভিডিও-র ভিড়। লাইক-ভিউ পাওয়ার এই উদগ্র বাসনায় মাঝেমধ্যেই দাপিয়ে বেড়ায় নানা ভুয়ো খবর। কিন্তু একটি সস্তা ভিডিওর প্রভাবে যে মানুষ পশুর পর্যায়ে নেমে গিয়ে খুন পর্যন্ত করতে পারে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ মিলল মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। দুবাই, সংযুক্ত আরবআমিরশাহির মত দেশগুলোতে নাকি কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হয় পুরুষ অণ্ডকোষ,এমনই এক সোশ্যাল মিডিয়া গুজবের ওপর ভর করে ১৬ বছরের এক কিশোরকে নৃশংসভাবে হত্যা করল পাঁচ যুবকের একটি গ্যাং। কিন্তু ঘটনাচক্রে, অঙ্গ কাটার পর কোনো ক্রেতা না পেয়ে তিন দিন পর তা লেকের জলে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হয় তারা। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আইন বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা,এই দাবির কোনো বাস্তব বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিই নেই।
ভোপালকাণ্ডে ইন্টারনেটের বিপজ্জনক প্রভাব
ঘটনার সূত্রপাত ভোপালের জোহেব খান নামের ২০ বছর বয়সী এক বিবিএ শিক্ষার্থীর হাত ধরে। পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি 'রিল' ঘুরপাক খাচ্ছিল, যেখানে দাবি করা হয়,মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মানব অণ্ডকোষের বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। এই বিভ্রান্তিকর তথ্যে প্রলুব্ধ হয়ে জোহেব নিজেকে ডাক্তারি ছাত্র পরিচয় দিয়ে আরও চারজনকে দলে টানে। তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, অঙ্গটি বিক্রি করতে পারলে অন্তত ১ থেকে ১.৫ কোটি টাকা মিলবেই।
এর পর গত ৬ আগস্ট খাতলাপুরার কাছে এক ফুটপাতের ১৬ বছর বয়সী হকার কিশোরকে ১০০ টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন ধোবি ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করার পর ব্লেড দিয়ে অঙ্গটি কেটে নেওয়া হয়। তবে এর পরের পরিস্থিতি তাদের চিন্তার বাইরে ছিল। অঙ্গ কেটে নেওয়ার পর তারা হন্যে হয়ে ঘুরেও কোনো ক্রেতার সন্ধান পায়নি। কারণ, বাস্তবে এমন কোনো বাজার বা চাহিদার অস্তিত্বই ছিল না। শেষমেশ কোনো উপায় না দেখে এবং টিস্যু পচে যেতে শুরু করায় কাটা অঙ্গটি তারা স্থানীয় লোয়ার লেকের জলে ফেলে দেয়। ১০ আগস্ট কিশোরের পচাগলা দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্তে নেমে জোহেব ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে।
কেন এই দাবি একশো শতাংশ ভিত্তিহীন?
চিকিৎসক ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাবি সম্পূর্ণ কল্পবিজ্ঞান বা সস্তা গুজবের শামিল।
কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজন নেই: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে 'টেস্টিকুলার ট্রান্সপ্লান্ট' বা অণ্ডকোষ প্রতিস্থাপন অত্যন্ত বিরল এবং জটিল এক চিকিৎসা। চিকিৎসা জগতে কৃত্রিম হরমোন থেরাপি (HRT) বা কৃত্রিম ইমপ্ল্যান্টের ব্যবহার রয়েছে, ফলে অন্য কারও অঙ্গ কেটে বসানোর কোনো বাণিজ্যিক বা ডাক্তারি প্রয়োজন তৈরি হয় না।
সংরক্ষণের নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি: যে কোনো মানব অঙ্গ বা টিস্যু শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও বৈজ্ঞানিক প্রসেসিং ছাড়া কয়েক ঘণ্টার বেশি কার্যকর রাখা সম্ভব নয়। কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সাধারণ উপায়ে টিস্যু সংরক্ষণ করে অন্য দেশে পাচার করা বায়োলজিক্যালি অসম্ভব।
কঠোর আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইন: ভারতে 'ট্রান্সপ্লান্টেশন অব হিউম্যান অর্গানস অ্যান্ড টিস্যুস অ্যাক্ট, ১৯৯৪' অনুযায়ী যেকোনো মানব অঙ্গের বাণিজ্যিক বেচাকেনা সম্পূর্ণ বেআইনি ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একইভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও মানব অঙ্গ পাচারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইন প্রচলিত।
সোশ্যাল মিডিয়া ও সাইবার সচেতনতা
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউটিউব শর্টস বা ইনস্টাগ্রাম রিলসে ভিউ বাড়িয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য অনেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এই ধরনের অলৌকিক বা চমকপ্রদ দাবি তৈরি করে। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকে না। ভোপালের ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সাইবার জগতের অন্ধ বিশ্বাস কীভাবে বাস্তব জীবনে ভয়াবহ অপরাধ ও প্রাণহানির কারণ হতে পারে। অপ্রমাণিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়া এবং তা ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসন।
