জনমত সমীক্ষার সঙ্গে মিলে গেল  দিল্লি বিধানসভা ভোটের ফল। ফের একবার মসনদে বসতে চলেছে আম আদমি পার্টি। গত বারের তুলনায় ফল কিছুটা ভাল হলেও লক্ষ্য থেকে অনেকটা দূরেই শেষ করতে হল বিজেপিকে। এদিকে এদিন সকালে ভোট গণনা শুরু আগে বিজেপি সদর দফতরের বাইরে একটি পোস্টার সকলের নজর কাড়ল।

এবারের বিধানসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বেই ভোটপ্রচার করে বিজেপি। তার ছবি দেওয়া একটি পোস্টারই এদিন ছিল রাজধানীর আলোচ্য বিষয়। যাতে লেখা রয়েছে, "বিজয় আমাদরে অহঙ্কারী বানায় না, এবং পরাজয় আমাদের হতাশ করে না।" হিন্দিতে লেখা হয়েছে পোস্টারটি। 

বুথ ফেরত সমীক্ষাই আভাস দিয়ে রেখেছিল এবারও রাজধানীতে বইবে কেজরি ঝড়। সেই মতই ভোটগণনানর শুরু থেকেই  জয়ের ধারা বজায় রেখেছিল আম আদমি পার্টি। একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়েই ফের একবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অরবিন্দ কেজরিওাল। 

যদিও জনমত সমীক্ষার এই ফলকে মানতে চায়নি বিজেপি নেতৃত্ব। তবে লড়াইটা যে বেশ কঠিন ছিল তা আগেই জানত গেরুয়া শিবির। তাই প্রচারে নেমেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তবে জাতীয়তাবাদের হিরিক তুলেও বিশেষ সুবিধে করতে পারেনি পদ্মশিবির। দিল্লিবাসী স্থানীয় উন্নয়নকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। 

গত ২০ বছরে দিল্লি বিধানসভা দখল করতে পারেনি ভারতীয় জনতা পার্টি। লোকসভা ভোটের পর থেকেই একের পর এক বিধানসভা নির্বাচনে লেজে গোবরে অবস্থা গেরুয়া শিবিরের। মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, পঞ্জাব সবখানেই বিরোধী সরকার। হরিয়ানাতে কোনও রকনে জোট করে টিম টিম করে জ্বলছে আলো। এই অবস্থায় সংসদে  নাগরিকত্ব আইন পাসের পর দেশের রাজধানীতেও সুবিধে করতে পারল না গেরুয়া শিবির। দিল্লিবাসী প্রত্যাক্ষানই করল ভারতীয় জনতা পার্টিকে। তাই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের আস্থা বজায় রাখতেই কী শেষপর্যন্ত পোস্টারের ভোকাল টনিক দরকার হল গেরুয়া শিবিরের নেতাদের, সেই প্রশ্ন থেকেই গেল।