ভারতে বহু বিবাহ নিষিদ্ধ মধ্যপ্রদেশের এক গ্রামে অবশ্য সব মহিলারই একাধিক স্বামী এমনকী একজনের আটজন স্বামীও রয়েছে এই প্রথার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে

এক মহিলার একাধিক স্বামী। এমন কথা বললেই একমাত্র 'মহাভারত'-এর দ্রৌপদীর কথা মাথায় আসে। কিন্তু তা মহাকাব্যের কথা। কিন্তু একেবারে বাস্তব জীবনে, আধুনিক ভারতেও এমন ঘটনা ঘটে। অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই সত্যি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ভারতে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হলেও বহু জায়গাতেই এখনও এই প্রথা চালু রয়েছে। কোথাও ধর্মীয় ঐতিহ্যের কারণে, কোথাও বা প্রয়োজনে এই প্রথা এখনও প্রচলিত। বিশ্বজুড়েই বহু সমাজেই বহুবিবাহ চালু আছে। ইসলাম ধর্মেও পুরুষদের একাধিক স্ত্রীকে বিয়ে করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু এইসব জায়গাতেও এক মহিলা একাধিক স্বামীর সঙ্গে ঘর করছেন, এমন কথা শোনা যায় না।

ব্যতিক্রম সরাই চোল নামে ভারতের একটি ছোট্ট গ্রাম। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের সীমান্তবর্তী মোরেনা জেলা থেকে পনেরো কিলোমিটার দূরের এই গ্রামে পরিবারের সব ভাইয়ের বিয়ে হয় একজন মহিলার সঙ্গেই। বহু বছর ধরেই এই গ্রামে এমনটা হয়ে আসছে।

এর পিছনে কিন্তু কোনও ধর্মীয় বা ঐতিহ্যগত কারণ নেই। এর পিছনে একমাত্র কারণ হল এই গ্রামের ক্রমবর্ধমান লিঙ্গ বৈষম্য। এই অঞ্চলে মহিলাদের সংখ্যা এতই কম যে বিবাহযোগ্য পুরুষদের প্রত্যেকের জন্য কনে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। তাই এখানকার মহিলারা একই পরিবারের একাধিক পুরুষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। রীতি অনুযায়ী এই গ্রামে, পরিবারের কোনও পুরুষ যদি কোনও মহিলাকে বিয়ে করে, তবে তার ভাইদের সেই মহিলার উপর তার মতোই অধিকার জন্মায়।

সরাই চোলার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কোনও মহিলার শুধুমাত্র একজন পুরুষের সঙ্গেই বিয়ে হয়েছে, তাঁদের গ্রামে এরকম পরিবার খুব কমই রয়েছে। এমনকি আটজন পর্যন্ত স্বামী আছে এরকম মহিলাও আছেন। তবে শুধু ওই একটি গ্রামই নয়, আশপাশের প্রায় একডজন গ্রামের মানুষ মহিলাদের বহুবিবাহ-কেই নিয়ম বানিয়ে নিয়েছেন। কালক্রমে তা এখন প্রায় এই অঞ্চলের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু কেন এই অঞ্চলে লিঙ্গ বৈষম্য এক বেশি? জানা গিয়েছে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এখানকার সমাজে কন্যা সন্তানের জন্মকে দুর্ভাগ্য হিসাবে বিবেচনা করা হত। তাই গর্ভাবস্থাতেই কন্যা-ভ্রূণ হত্যা করা হত। এভাবেই ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে মহিলাদের সংখ্যা খুবই কমে গিয়েছে।

তার উপর রয়েছে জাতপাতের বিচার। সমাজের এক জাতের লোক ভিন্ন জাতের মহিলাকে পুত্রবধূ করতে নারাজ। এ কারণেই মহিলাদের বহুবিবাহের প্রচলন হয়।

কন্যা সন্তান না চাইতে চাইতে পুত্রবধূই এখন পাওয়া দায় হয়ে পড়েছে। তবে এখন সেখানকার মানুষ দাবি করছেন তাঁরা তাঁদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। ধীরে ধীরে কন্যা-ভ্রূণ হত্যা ঘটনা কমছে।