India and South Korea: বিশ্বজুড়ে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, তখন ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং-এর বৈঠকে একাধিক চুক্তি সই হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। 

বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধ আর অশান্তির আশঙ্কা বাড়ছে, তখন ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া স্থিতিশীলতার স্তম্ভ হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার এই কথাই জোর দিয়ে বলেছেন। তিনি আরও জানান, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য দুই দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।রাজধানী দিল্লিতে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং-এর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে একাধিক মউ (MoU) বা চুক্তিপত্র সই হয়।

ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

হায়দরাবাদ হাউসে আয়োজিত এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে এই চুক্তিগুলি চূড়ান্ত হয়। বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই চুক্তিগুলি করা হয়েছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

চুক্তি বিনিময়ের পর যৌথ প্রেস বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এই অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। মোদী বলেন, "এই বিশ্বজোড়া উত্তেজনার আবহে ভারত আর কোরিয়া একসঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে।"

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই অংশীদারিত্বের কূটনৈতিক তাৎপর্য অনেক বেশি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন-ইজরায়েলি বাহিনী এবং ইরানের মধ্যে পারস্পরিক সামরিক হানাহানিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের পথগুলিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

মোদীর প্রতিক্রিয়া

এই অস্থিরতার আবহে ভারতের নেতৃত্বে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সিওলের যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমরা খুব খুশি যে আজ কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ওশেনস ইনিশিয়েটিভে যোগ দিচ্ছে।"

আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে দুই গণতান্ত্রিক দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য অবদান রাখব।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুই দেশই একমত যে "বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সংস্কার অপরিহার্য।"

ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের নোবেলজয়ী কবির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "প্রায় একশো বছর আগে, ভারতের মহান কবি গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোরিয়াকে 'পূর্বের প্রদীপ' বলেছিলেন। আর আজ, আমাদের উন্নত ভারত ২০৪৭-এর সংকল্প পূরণে কোরিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী।"

প্রধানমন্ত্রী আস্থা প্রকাশ করেন যে এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মোদী বলেন, "আসুন, আমাদের এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথ তৈরি করি।"