India-Australia Trade: Rubix-এর একটি রিপোর্ট বলছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে সমস্ত ভারতীয় পণ্যে শুল্ক শূন্য হয়ে যাবে। এর ফলে, রপ্তানি বাড়তে পারে। ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কমলেও, তার কারণ রপ্তানি বৃদ্ধি নয়, বরং আমদানি কমে যাওয়া।
India-Australia Trade: ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে ভারতের সমস্ত রপ্তানি পণ্যের উপর থেকে শুল্ক উঠে যাচ্ছে। এর ফলে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারত আরও সুবিধাজনক জায়গায় চলে আসতে পারে। দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমার কারণ হিসেবে যখন কম আমদানিকেই চিহ্নিত করা হচ্ছে, তখন এই নতুন নিয়ম ভারতের রপ্তানি আরও অনেকটা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। Rubix Data Sciences-এর একটি রিপোর্টে এই সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

Rubix-এর 'কান্ট্রি ইনসাইটস' রিপোর্টে বলা হয়েছে, "অস্ট্রেলিয়ার বাজারে সব ভারতীয় পণ্যের জন্য জিরো-ডিউটি অ্যাক্সেস চালু হলে ভারতের রপ্তানি প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যাবে। কারণ, তার ফলে বাকি থাকা ট্যারিফ বাধাগুলো দূর হবে এবং সব ধরনের রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রেই দামের সুবিধা পাওয়া যাবে।"
ECTA-র সুবিধা এবং বাণিজ্য ঘাটতির অবস্থা
সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত-অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তি বা ECTA-র সম্পূর্ণ সুবিধা এখন হয়তো ভারতের রপ্তানি বাড়াতে সাহায্য করবে। এই চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়া ভারতের সব পণ্যের উপরই শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। তার মধ্যে ৯৮.৩% প্রোডাক্টের সঙ্গে সঙ্গেই শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়। আর বাকিগুলির উপর থেকে ধাপে ধাপে শুল্ক কমানো হচ্ছিল।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ইতিমধ্যেই অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০২৩ অর্থবর্ষে (FY2023) এই ঘাটতি ছিল ১২.১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ অর্থবর্ষে (FY2026) কমে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, এই উন্নতি ভারতের রপ্তানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির কারণে কারণে হয়নি।
রিপোর্ট বলছে, "রপ্তানি বৃদ্ধি সামান্যই থেকেছে, কিন্তু আমদানি লাগাতার কমতে থাকায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি অর্ধেকের বেশি কমেছে। এটা মূলত আমদানির দিকে উন্নতি, সার্বিক বাণিজ্য লাভ নয়।"
বাণিজ্যের পরিসংখ্যান এবং গতিপ্রকৃতি
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ অর্থবর্ষে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতের আমদানি ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ অর্থবর্ষে কমে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, বছরে প্রায় ১০ শতাংশ হারে আমদানি কমেছে। অন্যদিকে, এই একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে সামান্য বেড়ে ৭.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চক্রবৃদ্ধি হারে বার্ষিক বৃদ্ধির হার মাত্র ১.৬ শতাংশ।
সবমিলিয়ে, দ্বিপাক্ষিক পণ্যের বাণিজ্য ২৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২১.১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে পরিষ্কার যে, ভারত মূলত অস্ট্রেলিয়ার থেকে কম জিনিস কিনে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়েছে, রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে নয়। এখন সব ভারতীয় পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা চালু হলে দামের যে সুবিধা পাওয়া যাবে, তা রপ্তানি বাড়াতে এবং বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে।
রপ্তানি এবং আমদানি সামগ্রীর পরিবর্তন
ভারতের রপ্তানির তালিকায় সবচেয়ে বড় জায়গা ধরে রেখেছে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য। ২০২৬ অর্থবর্ষে মোট রপ্তানির ৩৭ শতাংশই ছিল এটি। তবে ২০২৩ অর্থবর্ষে এর পরিমাণ ছিল ৪২ শতাংশ, অর্থাৎ কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, ফার্মাসিউটিক্যালস, সোনার গয়না, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি এবং যাত্রীবাহী গাড়ির রপ্তানি বেড়েছে।
আমদানির ক্ষেত্রে, অস্ট্রেলিয়ার থেকে কেনা পণ্যের মধ্যে কয়লার আধিপত্য বজায় থাকলেও এর পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। ২০২৩ অর্থবর্ষে মোট আমদানির ৭৭ শতাংশ কয়লা থাকলেও, ২০২৬ অর্থবর্ষে তা কমে ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে সোনা, তামার আকরিক, শুকনো ডাল এবং কাঁচা তুলার আমদানি বেড়েছে।
২০২২ সালের এপ্রিলে স্বাক্ষরিত ECTA চুক্তিটি ২০২৬ সালের এপ্রিলে চার বছর পূর্ণ করেছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে শুল্ক বাধা কমেছে এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ বেড়েছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


