India Bloc Meeting: তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, এনসি পার্টির নেতা ওমর আবদুল্লা সহ আরও অনেকেই। তবে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক বয়কট করল ডিএমকে।
India Bloc Meeting: দিল্লিতে চলছে বিজেপি-এনডিএ বিরোধী মঞ্চ ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক (india bloc meeting)। তবে এই বৈঠককে সরাসরি বয়কট করেছে ডিএমকে। সোমবার দুপুর ১২টায়, দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এই বৈঠক শুরু হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন মোট ২৩টি বিরোধী দলের নেতৃত্ব এবং প্রতিনিধিরা (india bloc news)।

তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, এনসি পার্টির নেতা ওমর আবদুল্লা সহ আরও অনেকেই।
তবে এই বৈঠকের তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর ঠিক পাশের চেয়ারেই বসে আছেন মমতা। আর তাঁর পাশে আছেন পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি। এরপরেই আছেন তেজস্বী।
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক বয়কট করল ডিএমকে
অপরদিকে, সোনিয়ার ডানদিকে আছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আর রাহুলের পাশেই আছেন অখিলেশ এবং তারপর ওমর আবদুল্লা।
উল্লেখ্য, একটা সময় বিরোধী জোটের বৈঠকে প্রধান মুখ হিসেবে রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেদের পাশাপাশি থাকতেন নীতীশ কুমার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এমকে স্ট্যালিন এবং সীতারাম ইয়েচুরিরা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে, এই দলগুলির রাজনৈতিক অবক্ষয় এবং কংগ্রেসের সঙ্গে মনোমালিন্য, সবমিলিয়েি বিরোধী জোটের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা বদলেছে।
যদিও মমতার সঙ্গে রাহুল এবং সোনিয়ার সখ্যতা বেড়েছে অনেকটাই। হারের পর এবং সোনারপুরে অভিষেকের উপর হামলার পর, রাহুল গান্ধী আলাদা করে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কিন্তু আক্ষরিক অর্থে দেখতে গেলে ইন্ডিয়া জোট আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। তার কারণ, বিজেপি বিরোধী জোটে থাকা একাধিক দল নানা রাজ্যে পরাজিত হয়েছে এবং কয়েকটি দল এই ব্লক থেকে বেরিয়েও গেছে।
শুধু তাই নয়, কংগ্রেসের নিজেরও যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান আঞ্চলিক রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের সঙ্গে শরিকদের দ্বন্দ্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন আম আদমি পার্টি নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তারা সোমবারের বৈঠকেও যোগ দেয়নি। আবার সিপিএম এবং ডিএমকে-র সঙ্গেও কংগ্রেসের বনিবনা হচ্ছে না। কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে ইডি-র তল্লাশিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের উপরেও রীতিমতো ক্ষুব্ধ কেরালার সিপিএম রাজ্য কমিটি। এমনকি, বেশ কিছু নীতির বিরোধিতাও করেছে তারা।
সোনিয়ার পাশে মমতা, আর কোন কোন দল রয়েছে?
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হতেই ডিএমকে-র হাত ছেড়ে দিয়েছে কংগ্রেস। তারা সরাসরি টিভিকে-র সঙ্গে জোটে নাম লিখিয়েছে। এই মুহূর্তে তামিলনাড়ুতে টিভিকে সরকারের অন্যতম শরিক হল কংগ্রেস। ফলে, ভোটের পর থেকেই ডিএমকে এবং কংগ্রেসের সম্পর্ক খারাপ জায়গায় গেছে। তাছাড়া শক্তিশালী বিরোধী মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এমকে স্ট্যালিন দুজনই নিজেদের রাজ্যে পরাজিত হয়েছেন এবং দলও ডুবেছে।
পশ্চিমবঙ্গে মমতার সঙ্গে কংগ্রেসের বিরোধিতা রয়েছে। তবে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বর্তমানে মমতার ভালো সম্পর্ক। তবে সেটা স্ট্যালিনের নেই। তাই আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে, উভয়ই এই বৈঠক বয়কট করেছে। তবে সিপিএম-এর প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, সিপিআইএম(এল) লিবারেশনের পক্ষ থেকে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও উপস্থিত আছেন।
তবে শক্তিশালী এবং উন্নয়নশীল বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আদৌ কতটা লড়াই দিতে পারবে এই ভঙ্গুর বিরোধী জোট, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

