প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) পরপর দুটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি 'প্রলয়' ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি 'প্রলয়' (Pralay) ক্ষেপণাস্ত্রের পরপর দুটি উৎক্ষেপণের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। এটি ভারতের স্থলসেনা এবং বায়ুসেনার শক্তি বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

সাফল্যের পরীক্ষা (স্যালভো লঞ্চ)

ওড়িশা উপকূলের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR) থেকে আজ সকাল ১০:৩০ নাগাদ এই পরীক্ষাটি চালানো হয়। একটি লঞ্চার থেকে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হেনেছে।

প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য

এটি ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম একটি স্বল্প পাল্লার কোয়াসি-ব্যালিস্টিক (Quasi-ballistic) ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ১৫০ কিমি থেকে ৫০০ কিমি পাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এটি শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে (Supersonic) চলতে সক্ষম।

শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে মাঝ আকাশে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করার (Manoeuvrable) ক্ষমতা এর রয়েছে। এটি ৩৫০ কেজি থেকে ৭০০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ অবদান

এই ক্ষেপণাস্ত্রটি হায়দ্রাবাদের রিসার্চ সেন্টার ইমারত (RCI) এবং অন্যান্য DRDO ল্যাবরেটরি, ভারত ডাইনামিক্স ও ভারত ইলেকট্রনিক্স-এর সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা এই পরীক্ষাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং DRDO এবং সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি প্রশংসা করে বলেন, "এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে।" DRDO-র চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাত জানিয়েছেন যে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শীঘ্রই সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তুত।