ভারতের দ্বিতীয় কালভারি-ক্লাস সাবমেরিন INS খান্ডেরিতে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে লাগানো হবে দেশীয় এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (AIP) সিস্টেম। এই সাবমেরিনটি জলের উপরে না এসেই সপ্তাহের পর সপ্তাহ ডুব দিয়ে থাকতে পারবে। এর ফলে এর স্টেলথ ক্ষমতা বেড়ে যাবে।

নয়া দিল্লি: ভারতের ডুবোজাহাজ যুদ্ধের ক্ষমতা এক লাফে অনেকটা বাড়তে চলেছে। কালভারি-ক্লাসের দ্বিতীয় সাবমেরিন INS খান্ডেরি-তে ২০২৬ সালের শেষের দিকেই বসানো হচ্ছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (AIP) সিস্টেম।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত এক সিনিয়র প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, "এই সিস্টেমের সমস্ত শোর-বেসড ট্রায়াল (ডাঙায় করা পরীক্ষা) শেষ হয়েছে এবং এটি প্রয়োজনীয় সব মাপকাঠি পূরণ করেছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় সাবমেরিনে এটি বসানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে।"

DRDO-র এক শীর্ষ সূত্র এশিয়ানেট নিউজেবল ইংলিশ-কে জানিয়েছে, "আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে আমরা এই 'এনার্জি মডিউল' সিস্টেমটি মাজাগাঁও ডকইয়ার্ডস লিমিটেডকে হস্তান্তর করব।" INS খান্ডেরি যখন মেরামতির জন্য ডকে থাকবে, সেই রিফিট পিরিয়ডেই সাবমেরিনের মূল কাঠামোর মধ্যে এই এনার্জি মডিউলটি বসানো হবে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, "প্রাথমিক সমুদ্র পরীক্ষা বা সি-ট্রায়াল ২০২৭ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর পুরো রিফিট প্রক্রিয়াটি ২০২৮ সালের শুরুতে শেষ হয়ে যাবে।"

AIP সিস্টেম আসলে কী?

এই AIP সিস্টেমটি আসলে ভারতীয় নৌসেনার প্রথম কালভারি-ক্লাস সাবমেরিন INS কালভারি-তে লাগানোর কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় সিস্টেমটি তৈরি না হওয়ায়, এখন ওই সাবমেরিনটির সাধারণ রিফিটিং চলছে।

ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)-এর তৈরি এই AIP মডিউলটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা একেবারে শেষ পর্যায়ে ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে, এখন প্রজেক্ট ৭৫-এর দ্বিতীয় সাবমেরিন INS খান্ডেরি-তে এটি লাগানোর জন্য ছাড়পত্র মিলেছে।

AIP প্রযুক্তির সাহায্যে সাধারণ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনগুলো ব্যাটারি রিচার্জ করার জন্য জলের উপরে না এসেই অনেক বেশি সময়, এমনকি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত জলের তলায় ডুবে থাকতে পারে। এর ফলে সাবমেরিনের লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা এবং একটানা কাজ করার ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

বর্তমানে ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনগুলোকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর 'স্নরকেল' করতে হয়, অর্থাৎ জলের উপরে এসে ব্যাটারি চার্জ করতে হয়। এই সময় শত্রুপক্ষের রেডার বা সেন্সরে ধরা পড়ার ঝুঁকি থাকে। AIP সিস্টেম ছাড়া একটি সাবমেরিনকে প্রতি চার-পাঁচ দিন অন্তর জলের উপরে আসতেই হয়।

এই প্রযুক্তি সাবমেরিনে যুক্ত হওয়ার পর ভারত সেই সব দেশের তালিকায় নাম লেখাবে, যারা নিজেদের দেশেই ফুয়েল-সেল ভিত্তিক সাবমেরিন AIP প্রযুক্তি তৈরি করতে পেরেছে।

এই প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধবও বটে। কারণ এর একমাত্র উপজাত দ্রব্য হল বিশুদ্ধ জল, যা নিরাপদে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া যায়।

DRDO-র পুণে-ভিত্তিক নেভাল মেটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরি (NMRL) ফসফরিক অ্যাসিড ফুয়েল সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই AIP সিস্টেমটি তৈরি করেছে, যা ভারতীয় নৌ-প্রযুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে একটি বিশাল মাইলফলক।

ফরাসি নেভাল গ্রুপের সহযোগিতায় মুম্বইয়ের মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এ তৈরি কালভারি-ক্লাসের মোট ছয়টি সাবমেরিনই এখন ভারতীয় নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বর্তমানে ভারতীয় নৌসেনার কাছে ১৬টি প্রচলিত সাবমেরিন রয়েছে। সম্প্রতি তৈরি হওয়া এই ছয়টি সাবমেরিন ছাড়া বাকিগুলোর বয়স ৩০ বছরের বেশি এবং সেগুলির অবসরের সময়ও ঘনিয়ে আসছে।