ভূ-রাজনীতিতে পাকিস্তানের মতো কোনও "দালাল দেশ" হিসেবে কাজ করতে পারে না ভারত। বুধবার পশ্চিম এশিয়া সঙ্কট নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সর্বদলীয় বৈঠকে এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করার প্রেক্ষাপটে বিদেশমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

ভূ-রাজনীতিতে পাকিস্তানের মতো কোনও "দালাল দেশ" হিসেবে কাজ করতে পারে না ভারত। বুধবার পশ্চিম এশিয়া সঙ্কট নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সর্বদলীয় বৈঠকে এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকের সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করার প্রেক্ষাপটে বিদেশমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরী-সহ বেশ কয়েকজন বরিষ্ঠ মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, জেডি(ইউ) এবং সিপিআই(এম)-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার আয়োজনের প্রস্তাব পাকিস্তানের

সংঘাতপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার জন্য পাকিস্তানের জোরদার প্রচেষ্টার মধ্যেই জয়শঙ্করের এই মন্তব্যটি সামনে আসে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্থবহ ও চূড়ান্ত আলোচনা সহজতর করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত ও সম্মানিত বোধ করছে। তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষের সম্মতি সাপেক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনার আয়োজক হতেও পাকিস্তান ইচ্ছুক। এই বিবৃতিটি এমন এক প্রেক্ষাপটে এল, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছিল যে—মিশর ও তুরস্কের পাশাপাশি পাকিস্তানও শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে নেপথ্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় (backchannel efforts) লিপ্ত রয়েছে। শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার (de-escalation) আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'ট্রুথ সোশ্যাল' (Truth Social) প্ল্যাটফর্মে শাহবাজ শরিফের পোস্টটি শেয়ার করে তাঁর মন্তব্যকে আরও জোরাল করে তোলেন। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তেহরানের সঙ্গে অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনার কথা বিবেচনা করে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার যে হুমকি ওয়াশিংটন দিয়েছিল, তা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হবে। যদিও তিনি আলোচনার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেননি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। 'ফিন্যান্সিয়াল টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-সহ পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। অন্যদিকে 'সিএনএন' (CNN) জানিয়েছে যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলো ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার তাঁর ইরানি বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ইরান এই প্রস্তাব প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং ইঙ্গিত দিয়েছে যে—যদি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা পাকিস্তান কিংবা তুরস্কের মাটিতে হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা আলোচনার সময়সীমা এখনও পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।

ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

নেপথ্যে বিভিন্ন তৎপরতা চলমান থাকা সত্ত্বেও, ইরান প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছে যে তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা চলছে। বরং তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্তারা আলোচনার বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁরা মার্কিন পদক্ষেপগুলোকে "কূটনীতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, তাদের সামরিক বাহিনী বর্তমানে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ই পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইজরায়েলকেও মার্কিন প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তবে ইরান যে এই প্রস্তাবের শর্তাবলি মেনে নেবে—সে বিষয়ে ইজরায়েল এখনও সন্দিহান।

সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করল

বর্তমানে চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করা এই যুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে শত্রুতা ও সংঘাতের তীব্রতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন এবং পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা হামলার জেরে পুরো অঞ্চলে সংঘাতের ব্যাপক বিস্তার ঘটে।