- Home
- India News
- Weak Monsoon: ভয়ঙ্কর বৃষ্টি কম ভারতে! পরিবেশ বাঁচাতে একাধিক সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর, কী পরিকল্পনা নিলেন তিনি?
Weak Monsoon: ভয়ঙ্কর বৃষ্টি কম ভারতে! পরিবেশ বাঁচাতে একাধিক সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর, কী পরিকল্পনা নিলেন তিনি?
চলতি বর্ষার মরশুমে এখনও পর্যন্ত ভারতে ৩৫ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন মন্ত্রককে আপৎকালীন পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
16

Image Credit : ANI
বিগত এক শতাব্দীর মধ্যে অন্যতম শুষ্ক জুন মাসের পর কেন্দ্র সরকার দীর্ঘস্থায়ী দুর্বল বর্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের থেকে অনেক কম হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিক মন্ত্রককে আপৎকালীন পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এর লক্ষ্য হল চাষাবাদ, জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার উপর প্রভাব কমানো। ভারতের প্রায় অর্ধেক কৃষি জমি মৌসুমী বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল, তাই বর্ষার গতিপ্রকৃতি দেশের অর্থনীতি ও কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Add Asianetnews Bangla as a Preferred Source

26
Image Credit : ANI
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, ৪ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত দেশে মাত্র ১১১.৮ মিমি বৃষ্টি হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক পরিমাণ ১৭২.৪ মিমি। অর্থাৎ, দেশজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি ৩৫ শতাংশ। জুন মাস ছিল বিশেষভাবে শুষ্ক। ১৯০১ সালের পর এটি পঞ্চম শুষ্কতম জুন। দেশের ৩৬টি আবহাওয়া অঞ্চলের মধ্যে ২৪টিতেই বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। যদিও বর্ষা দিল্লি, হরিয়ানা, পঞ্জাব এবং রাজস্থানের কিছু অংশে এগোচ্ছে, তবে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন জুলাই মাসেও দেশজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হবে।
36
Image Credit : Getty
আবহাওয়াবিদদের মতে, এর সবচেয়ে বড় কারণ হল প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া। এল নিনো একটি জলবায়ু পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যা সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলের গতিপথ বদলে দেয়। এটি ভারত মহাসাগরে বৃষ্টিবাহী সিস্টেম তৈরি হতে বাধা দেয়, ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। IMD জানিয়েছে, জুন মাসে ভারত মহাসাগরে কোনও নিম্নচাপ তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (IOD), যা অনেক সময় এল নিনোর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে, সেটিও এই বছর নিষ্ক্রিয় রয়েছে।
46
Image Credit : Asianet News
প্রধানমন্ত্রী মোদী একাধিক মন্ত্রককে বৃষ্টির ঘাটতির কারণে তৈরি হওয়া যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। ইন্ডিয়া টুডে-র একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, কৃষি, গ্রামোন্নয়ন, পঞ্চায়েতি রাজ, খাদ্য, জলশক্তি, বিদ্যুৎ, পশুপালন, স্বরাষ্ট্র এবং অর্থ মন্ত্রককে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, দুর্বল বর্ষার কারণে দেশের ৩১৫টি জেলা ইতিমধ্যেই সমস্যায় পড়েছে। এর মধ্যে ১১১টি জেলায় সেচ ব্যবস্থা ২৫ শতাংশের কম, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
56
Image Credit : Getty
জুলাই মাসেও বৃষ্টি কম হলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কৃষি। এখন খরিফ শস্য রোপণের সময়, যেমন ধান, ভুট্টা, ডাল, তুলা এবং সয়াবিন। অপর্যাপ্ত বৃষ্টিতে বীজ বপন পিছিয়ে যেতে পারে এবং ফসলের উৎপাদন কমতে পারে। সরকার জলাধারগুলির জলস্তরও পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ জল কমলে পানীয় জল এবং সেচের সমস্যা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনও একটি উদ্বেগের বিষয়। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি জলের উপর নির্ভরশীল। খরা পরিস্থিতি তৈরি হলে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা যোজনা (MGNREGS)-এর অধীনে বরাদ্দ বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।
66
Image Credit : Gemini AI
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষার জন্য জুলাই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে ভালো বৃষ্টি হলে ফসল রোপণ এবং সারা বছরের জন্য জল সঞ্চয় করা সহজ হয়। যদিও মরশুমের পরেও বৃষ্টির ঘাটতি মেটার সম্ভাবনা থাকে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি সরকারকে সবরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বাধ্য করেছে। আগামী সপ্তাহগুলিতে নীতি নির্ধারক এবং কৃষক, সকলেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে থাকবেন। (তথ্যসূত্র: বিভিন্ন সংবাদসংস্থা)
Latest Videos