অযোধ্যার রাম মন্দির তহবিলে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এবার ট্রাস্টের অন্দরেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য মহন্ত দিনেন্দ্র দাস মহারাজ এই বিতর্কের জন্য মন্দির প্রশাসনের সহকারী গোপাল রাওকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গোপাল রাও গোটা বিষয়টিকে নিয়ে 'রাজনীতি' করছেন এবং তাঁর জন্যই সমস্যা তৈরি হয়েছে। 

রাম মন্দিরের অনুদানের টাকা তছরুপের অভিযোগ নিয়ে এমনিতেই সরগরম উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি। এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য মহন্ত দিনেন্দ্র দাস মহারাজ এই বিতর্কের জন্য মন্দির প্রশাসনের সহকারী গোপাল রাওকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গোপাল রাও এই বিষয়টিকে নিয়ে 'রাজনীতি' করছেন এবং 'পুরো দোষটাই' তাঁর।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রাম মন্দিরে রাজনীতি!

বুধবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মহন্ত দিনেন্দ্র দাস মহারাজ অভিযোগ করেন যে, গোপাল রাও অকারণে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন এবং ট্রাস্টের ঐতিহ্য থেকে সরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, "গোপাল রাও প্রায়ই সবার জন্য ব্যাপারগুলো আরও জটিল করে তোলেন। উত্তরপ্রদেশে আমাদের ট্রাস্টিরা রামের ঐতিহ্য মেনে চলেন, কিন্তু গোপাল রাও সেই ঐতিহ্যও মানেন না... পুরো দোষটাই গোপালের, ও রাজনীতি করছে।"

তিনি এমন সময় এই মন্তব্য করেছেন যখন, অযোধ্যার রাম মন্দিরে পাওয়া অনুদান তছরুপের অভিযোগে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) তদন্ত চালাচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা চলছে।

দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি

এদিকে, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের অফিস ইন-চার্জ প্রকাশ গুপ্তা জানিয়েছেন, তদন্তে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনও নিরীহ ব্যক্তিকে অকারণে ফাঁসানো না হয়।

প্রকাশ গুপ্তা এএনআই-কে বলেন, "আমার বক্তব্য খুব সহজ: দোষীরা যেন ছাড়া না পায়, আবার কোনও নিরীহ ব্যক্তি যেন ফেঁসে না যায়। এমন কিছু লোককে এর মধ্যে টেনে আনা হচ্ছে যাদের কোনও যোগই ছিল না, অথচ সিট সবাইকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখাবে। আমি এমন কিছু ব্যক্তিকে চিনি যারা নিঃস্বার্থভাবে ওখানে কাজ করত, কিন্তু আপনি তো জানেনই, এসবের মাঝে পড়লে চোরের তকমা লেগে যায়।" তিনি আরও জানান, এই মামলায় গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিচার চলবে।

তিনি বলেন, "একবার গ্রেফতার হলে তো জেলে পাঠাতেই হবে। আর আদালত যখন তারিখ দেবে, তখন শুনানিও হবে। সেটা সরাসরি হোক বা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে, প্রক্রিয়া তো চলবেই। আজকাল তো ভিডিও কনফারেন্সিং খুব সাধারণ ব্যাপার; নিরাপত্তার সমস্যা থাকলে সশরীরে আনা-নেওয়া করা হয় না। আদালত কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমেই কাজ চালায়।"

রাম মন্দির তরজা

এর আগে, উত্তরপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের তোলা দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, বিরোধীরা রাম মন্দির নিয়ে রাজনীতি করছে। তিনি আশ্বাস দেন যে সিট তদন্ত নিরপেক্ষভাবেই চলবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড়া হবে না। প্রসঙ্গত, অখিলেশ যাদব রাম মন্দিরের অনুদানে অনিয়মের অভিযোগ তোলার পরেই এই বিতর্ক তীব্র হয়। এর জবাবে বিজেপি জানায়, তদন্ত চলছে। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ মনন কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, এই মামলায় ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সিট-এর তদন্ত চলছে।