অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম পাকিস্তানের এক শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীকে ভারতে আমন্ত্রণ জানাল নয়াদিল্লি। আগামী নভেম্বর মাসে দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর প্রথম ‘সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগ ফোরাম’। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তান-সহ SCO-র ১০টি সদস্য দেশকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম পাকিস্তানের এক শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীকে ভারতে আমন্ত্রণ জানাল নয়াদিল্লি। আগামী নভেম্বর মাসে দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর প্রথম ‘সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগ ফোরাম’। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তান-সহ SCO-র ১০টি সদস্য দেশকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ২০ অক্টোবর তাজিকিস্তানের দুশানবেতে অনুষ্ঠিত এসসিও (SCO) কাউন্সিল অফ হেডস অফ গভর্নমেন্ট-এর বৈঠকে এই ফোরামটির ঘোষণা করেন এবং জানান যে সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রকে এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠকে রাজনাথ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় ও ধারাবাহিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন যে, এক্ষেত্রে কোনও দ্বিমুখী নীতি থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে কোনও দ্বিমুখী নীতি থাকা চলবে না। যারা সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ দেয়, সমর্থন জোগায় বা তাদের নিরাপদ আশ্রয় দেয়, তাদের কোনও স্থান এখানে নেই। সন্ত্রাসবাদের পুরো কাঠামোটিকে দৃঢ়ভাবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভেঙে ফেলতে হবে।” বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার উপস্থিত ছিলেন।

বিশকেকে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনের পর কিরগিজস্তানের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করে পাকিস্তান ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য এসসিও কাউন্সিল অব হেডস অব স্টেটস-এর সভাপতিত্বের দায়িত্ব নিয়েছে।

কবে হবে সম্মেলন, কাকে আমন্ত্রণ?

আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে এই সম্মেলন হওয়ার কথা। পাকিস্তানের ন্যাশনাল হেরিটেজ অ্যান্ড কালচার মন্ত্রী আউরঙ্গজেব খান খিচি-কে (Aurangzeb Khan Khichi) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর। তবে পাকিস্তান এই সম্মেলনে যোগ দেবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

কী উদ্দেশ্যে এই সম্মেলন?

SCO-র সদস্য দেশগুলির মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক মজবুত করা, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোই এই ফোরামের মূল লক্ষ্য। ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা এবং প্রাচীন জ্ঞানচর্চার মতো বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৫ সালে চিনের তিয়ানজিনে SCO শীর্ষ সম্মেলনে এই উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এরপর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের কোনও মন্ত্রীকে ভারতে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, সব SCO সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি একটি বহুপাক্ষিক উদ্যোগের অংশ; একে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিবর্তন হিসেবে দেখা উচিত নয়।

SCO-র মঞ্চে কি মুখোমুখি হবে দুই দেশ?

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত। তবে SCO-র বিভিন্ন বৈঠকে দুই দেশ অংশ নিয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে তৎকালীন পাকিস্তানি বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি গোয়ায় SCO-র বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও SCO-র বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। পাকিস্তান সম্মেলনে অংশ নিলে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। তবে তার ফলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই।