ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মারাত্মকভাবে ছড়িয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে। ভারত তার নাগরিকদের এই দেশগুলো-সহ অন্যান্য স্থানে সব ধরণের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, সরকার এই তিন দেশে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশিকাগুলো মেনে চলতে পরামর্শ দিয়েছে।
ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মারাত্মকভাবে ছড়িয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে। ভারত তার নাগরিকদের এই দেশগুলো-সহ অন্যান্য স্থানে সব ধরণের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি, সরকার এই তিনটি দেশে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশিকাগুলো মেনে চলতে পরামর্শ দিয়েছে।

ভারত সরকারের জারি করা স্বাস্থ্য সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, "ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো এবং অন্যান্য আক্রান্ত দেশগুলোর পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারত সরকার তার সকল নাগরিককে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে।"
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং 'আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন' এই প্রাদুর্ভাবকে 'বৈশ্বিক জরুরি উদ্বেগ' হিসেবে ঘোষণা করার পরেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল। WHO-এর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, "ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (DRC) এবং উগান্ডায় ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাবের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)—'আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা' (IHR), ২০০৫-এর আওতায়—২০২৬ সালের ১৭ মে এই পরিস্থিতিকে 'আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা' (PHEIC) হিসেবে নির্ধারণ করেছে।"
WHO 'বুন্দিবুগিও' (Bundibugyo) ভাইরাসের বিস্তার রোধের লক্ষ্যে বেশ কিছু সাময়িক সুপারিশও জারি করেছে। ২২ মে জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সংস্থাগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত চৌকিগুলোতে রোগ নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভাইরাস-আক্রান্ত এলাকা থেকে আগমনের পর কেউ জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন। সেকথা মাথায় রেখেই নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে।
সীমান্তে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি WHO স্পষ্টভাবে বুন্দিবুগিও ভাইরাসের নিশ্চিত সংক্রমণ রয়েছে—এমন সকল এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এই স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভারত তার নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
বিমানবন্দরে নজরদারি জোরদার করল ভারত
নির্দেশিকার অংশ হিসেবে, বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্তাদের এমন যাত্রীদের উপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, অকারণ রক্তপাত, পেশিতে ব্যথা এবং ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। আক্রান্ত অঞ্চলগুলো থেকে আগত যাত্রীদের ভারতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে 'থার্মাল স্ক্রিনিং' এবং অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে।


