ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য। রাজস্থানের পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘপাল্লার ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন ‘KAL’। আইজি ডিফেন্সের তৈরি এই ড্রোনটি ২০ সেপ্টেম্বর পরীক্ষায় অংশ নেয়। সংস্থার দাবি, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের দীর্ঘপাল্লার মানবহীন স্ট্রাইক সক্ষমতা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য। রাজস্থানের পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘপাল্লার ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন ‘KAL’। আইজি ডিফেন্সের তৈরি এই ড্রোনটি ২০ সেপ্টেম্বর পরীক্ষায় অংশ নেয়। সংস্থার দাবি, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতের দীর্ঘপাল্লার মানবহীন স্ট্রাইক সক্ষমতা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

আধুনিক যুদ্ধে দীর্ঘপাল্লার ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের শাহেদ-১৩৬ এবং রাশিয়ার গেরান-২-এর মতো ড্রোন ব্যবহারের পর এই ধরনের অস্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হয়েছে। কম খরচে দীর্ঘ দূরত্বে হামলা চালানো এবং শত্রুর এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি করার ক্ষেত্রে এই ড্রোনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ

‘KAL’ ড্রোনের সর্বোচ্চ রেঞ্জ প্রায় ১০০০ কিলোমিটার। একটানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আকাশে থাকতে পারে এটি। ড্রোনটি সর্বোচ্চ ৫০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহন করতে সক্ষম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারে KAL। ড্রোনটিতে মাল্টি-ব্যান্ড GNSS এবং ইনর্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে পুরো মিশন জুড়েই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে পারে।

কোন কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে পারে?

KAL-কে নির্দিষ্ট ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। পরিকাঠামো, রাডার ইনস্টলেশন, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। পোখরান পরীক্ষায় ড্রোনটির এয়ারফ্রেম, প্রপালশন, অ্যাভিওনিক্স, নেভিগেশন এবং মিশন আর্কিটেকচারের সমন্বিত কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে।

AI প্রযুক্তির সঙ্গেও যুক্ত করা যাবে

KAL আইজি ডিফেন্সের ‘গ্রিড স্ট্রাইক’ পোর্টফোলিওর অংশ। সংস্থার ‘গ্রিড ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর সঙ্গে এই ড্রোনকে যুক্ত করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থায় AI-ভিত্তিক প্রযুক্তির সাহায্যে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব।

শাহেদ-গেরানের মতো ড্রোনের সঙ্গে তুলনা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইরানের শাহেদ এবং রাশিয়ার গেরান সিরিজের ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। দীর্ঘপাল্লার হামলা, এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা এবং একসঙ্গে বহু ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। KAL-ও দীর্ঘ রেঞ্জ, স্বয়ংক্রিয় উড়ান, পেলোড বহনের ক্ষমতা এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনার উপর গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আইজি ডিফেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও CEO বোধিসত্ত্ব সংঘপ্রিয় পরীক্ষার সাফল্যকে সংস্থা এবং ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শুধু KAL নয়

আইজি ডিফেন্স জানিয়েছে, দীর্ঘপাল্লার মানবহীন স্ট্রাইক সিস্টেমের পাশাপাশি ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, FPV কমব্যাট ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় UAV, কাউন্টার-UAS সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, AI-নির্ভর সোয়ার্ম প্রযুক্তি, ট্যাকটিক্যাল রোবোটিক্স এবং লজিস্টিকস ড্রোন নিয়েও কাজ করছে তারা। পোখরানে KAL-এর সফল পরীক্ষা ভারতের দেশীয় মানবহীন স্ট্রাইক প্রযুক্তির বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।