জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের সরব ভারত। অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)-এর বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভারতের উল্লেখের তীব্র বিরোধিতা করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, এই মন্তব্যগুলি ‘বিদ্বেষপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট এবং অসত্য’।

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের সরব ভারত। অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)-এর বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভারতের উল্লেখের তীব্র বিরোধিতা করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, এই মন্তব্যগুলি ‘বিদ্বেষপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট এবং অসত্য’। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওআইসি-কে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে ভারত। সোমবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, বাগদাদে ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ওআইসি-র বিদেশ মন্ত্রীদের পরিষদের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবগুলিতে ভারতের বিরুদ্ধে যে মন্তব্য করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান পরিকল্পিতভাবে ভারতের বিরুদ্ধে এই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরেছে। পাকিস্তানের সংকীর্ণ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক স্বার্থে ওআইসি-কে ফের ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত।

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার ওআইসি-র নেই বলেও দাবি করেছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর জম্মু-কাশ্মীরে পরিকাঠামো, পর্যটন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। এর সুফল সরাসরি সেখানকার বাসিন্দারা পাচ্ছেন বলেও দাবি করেছে কেন্দ্র।

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে পাল্টা অভিযোগ

পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের অভিযোগ, ওই অঞ্চলে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ দমন করতে হিংসা ও দমন-পীড়নের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় মহিলা ও শিশুসহ বহু মানুষের মৃত্যুর অভিযোগও তুলেছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, সংবাদমাধ্যমের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি আড়াল করা সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তানকে কী বার্তা দিল ভারত?

বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে যে বিষয়গুলি এখনও সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের বেআইনিভাবে দখল করে রাখা অঞ্চলগুলি ছেড়ে দেওয়া এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদত বন্ধ করা। ওআইসি-র প্রস্তাবে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষ সংক্রান্ত উল্লেখেরও বিরোধিতা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, সাম্প্রদায়িক হিংসা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান এই ধরনের বক্তব্য সামনে আনছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রচারকে বারবার সমর্থন করায় ওআইসি-র বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংগঠনটির সদস্য দেশগুলিকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করারও বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।