শুক্রবার শেষ হল ২০২০ সালের মালাবার নৌ মহড়ার প্রথম পর্যায়। ৩ নভেম্বর থেকে এই নৌ মহড়ার ২৪ তম সংস্করণ শুরু হয়েছিল। এইবারের মহড়ায় ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এবং জাপানের সঙ্গে সঙ্গে প্রথমবরের মতো যোগ দিয়েছিল অস্ট্রেলিয় নৌবাহিনী। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষিতে বঙ্গোপসাগরে অনুষ্ঠিত এই সামরিক অনুশীলন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এই অনুশীলনের মূল এজেন্ডাই ছিল ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে উন্মুক্ত, ব্যাপক এবং নিয়মবদ্ধ রাখা।

এইবারের মহড়াটি শুধুমাত্র সামুদ্রিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল। যাতে কোনওভাবেই এক দেশের বাহিনীর সদস্যরা অপর দেশের বাহিনীর সদস্যদের সংস্পর্শে না আসেন, তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বলাই বাহুল্য, কোভিড মহামারির প্রেক্ষিতেই এই অনুশীলনের এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। এই পর্যায়ের মালাবার নৌ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল মার্কিন গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার 'ইউএসএস জন এস ম্যাকেইন', এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টারগুলি-সহ অস্ট্রেলিয় রণতরী 'এইচএমএএস বল্লারাট' এবং এসএইচ-৬০ হেলিকপ্টারগুলি সহ জাপানি ডেস্ট্রয়ার 'জেএমএসডিএফ ওনামি'।

এছাড়া, ইস্টার্ন ফ্লিট-এর কমান্ডিং অফিসার রিয়ার অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎসায়ন-এর নেতৃত্বে ভারতীয় নৌ সেনা তো ছিলই। ভারতীয় পক্ষ থেকে, ডেস্ট্রয়ার 'রণবিজয়', ফ্রিগেট 'শিবালিক', অফশোর টহলদারী জাহাজ 'সুকন্যা', বহর সহায়তা জাহাজ 'শক্তি' এবং সাবমেরিন 'সিন্ধুরাজ' এই মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। এই রণতরীগুলি ছাড়াও উন্নতমানের জেট ট্রেইনার হক, দূরপাল্লার সামুদ্রিক টহলদারী বিমান পি-৮ আই, সামুদ্রিক টহলদারী বিমান ডরনিয়ার এবং নৌসেনার বেশ কিছু হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে।

মালাবার নৌমহড়ার দ্বিতীয় পর্যায়টি চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আরব সাগরে পরিচালিত হবে। ভারতীয় ও মার্কিন নৌ সেনার দ্বিপাক্ষিক অনুশীলন হিসাবে ১৯৯২ সালে শুরু হয়েছিল মালাবার নৌ মহড়া। এই প্রথম অস্ট্রেলিয়াকে এই মহড়ায় অংশ নিতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চার দেশেরই সাধারণ শত্রু চিন। চিনের হুমকিই এই প্রথম 'কোয়াড' জোটের চার দেশকে সামুদ্রিক সামরিক অনুশীলনে টেনে আনল।