সব বাধা বিঘ্ন পার করে অবশেষে এক হল চারহাত। করোনা আতঙ্কের  ভরাতীয় যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন চিনা রমণী। বিয়েকর আসর বসেছিল মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরে।

ভালবাসা যে জাত, ধর্ন, বর্ণ এসব কিছুই মানে না, হৃদয়েক বন্ধনই যে সেখানে প্রধান, তারই জীবন্ত দৃষ্টান্ত গড়লেন সত্যর্থ ও জিহাও। মধ্যপ্রদেশের ছেলে সত্যর্থ মিশ্রের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়লেন চিনা তরুণী জিহাও ওয়াং। সত্যর্থকে বিয়ে করতে গত বুধবারও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মধ্যপ্রদেশে এসেছেন জিহাও। বুধবার ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে গেল দুজনের। 

আরও পড়ুন: করোনার পর এবার বার্ডফ্লু আতঙ্ক, হত্যা করা হল ১৮,০০০ মুরগিকে

বছর পাঁচেক আগে কানাডায় পড়তে গিয়েছিলেন সত্যর্থ। সেখানকার শেরিডন বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠী জিহাওয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বই ক্রমে দানা বাঁধে প্রণয়ে। চিনা তরুণী জিহাওকেই জীবনসঙ্গী হিসাবে বেছে নেন সত্যর্থ। তবে বিদেশিনি পাত্রীকে প্রথমে মেনে নিতে অসুবিধে হয়েছিল মিশ্র পরিবারের। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছেলের ভালবাসারা পাশেই দাঁড়ান পরিবারের সদস্যরা। উভয়পক্ষের পরিবারের সম্মতিতেই ঠিক হয় বিয়ের দিন।

আরও পড়ুন: চিনে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল ৩৫০, হংকং-এ ধর্মঘটের ডাক চিকিৎসা কর্মীদের

কিন্তু কোরানা ভাইরাস যেন সবিকছুতে জল ঢালতে বসেছিল। কোনারপ দাপটে চিনে বাতিল করতে হয় সত্যর্থ ও জি-র বিয়ের অনুষ্ঠান। তবে ভালবাসা কবে বাধা মেনেছে। ২৯ জানুয়ারি সত্যর্থের সঙ্গে গাটছড়া বাঁধতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে চলে আসেন জিহাও। একেবারে ভারতীয় মতে ধুমধাম করে পালিত হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। সঙ্গীতে অন্যান্যদের সঙ্গে নাচতেও দেখা যায় চিনা নববধূকে। 

তবে ভারতে আসার পর থেকেই  করোনা আতঙ্কের কারণে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন জিহাও ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বিয়ের মণ্ডপেও হাজির হয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। 

ভারতে এসে বেশ খুশি জিহাও। এখানকার খাবারও ইতিমধ্যে পছন্দ করতে শুরু করেছেন তিনি। চিনের সঙ্গে ভারতের সংস্কৃতির বিস্তর ফরাক থাকলেও মিলও খুঁজে বার করছেন নববধূ। চার হাত এক হওয়ার পর শীঘ্রই এবার কর্মসূত্রে কানাডায় ফিরবেন নবদম্পতি। তবে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক পুরোপুরি নির্মূল হলে দেশে ফেরার করা জিহাওয়ের পরিবারের।