ক্রমেই আয়ত্তের বাইরে যাচ্ছে পরিস্থিতি। ধীরে ধীরের বদলে লাফিয়ে লাফিয়ে এখন দেশে বাঁড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শনিবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিল। আর রবিবার সকাল থেকেই ফের ৪-৬ হাকাতে শুরু করেছে কোভিড-১৯। এখনও পর্যন্ত এদেশে  ৩৪১ জন কোভিড আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

 

 

হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া করোনা বর্তামনে প্রায় ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এদের মধ্যে সবথেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রে। রবিবার নতুন করে রাজ্যটিতে আর ১০ করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। এদের মধ্যে ৬ জন মুম্বইয়ের বাসিন্দা। বাকি ৪ জন পুনের। ফলে মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪। রবিবার মুম্বইতে করোনা আক্রান্ত এক প্রৌঢ়ের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। এর আগেই শহরে করোনা সংক্রমণের জেরে আরও এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে করোনার হামলায় এখনও পর্যন্ত আমচি মুম্বইতে ২ জনের প্রাণ গেল।

 

পরিস্থিতি যাতে আয়ত্তের বাইরে না যায় তার জন্য শনিবারই গোটা রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করেছে রাজস্থান সরকার। রবিবার পঞ্জাব সরকারও সেই পথে হেঁটেছে। এদিকে ৬ রাজ্যের সঙ্গে নিজের সীমানা বন্ধ করে দিল কর্ণাটক। বাইরে থেকে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় সেজন্য একই পথে এগিয়েছে পঞ্জাব, ওড়িশা, রাজস্থান, গোয়া, পশ্চিমবঙ্গ এবং গুজরাতও। ২২ তারিখ মধ্যরাত থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শহরতলীর কয়েকটি ট্রেন পরিষেবা ছাড়া  দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করেছে রেল মন্ত্রক। 

 

 

এতদিন পর্যন্ত এদেশে করোনা সংক্রমণে ৬০ বছরের উর্দ্ধে ব্যক্তিদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও রবিবার নিয়মের অন্যথা হল। বিহারের পাটনায় মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল ৩৮ বছরের যুবকের। মুঙ্গেরের বাসিন্দা ওই যুবক বাইরে কাজ করতে গিয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।

আবার নতুন রেকর্ড গড়ল মৃত্যুপুরী ইতালি, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা প্রাণ নিল প্রায় ৮০০ জনের

করোনায় জোড়া মৃত্যু, মুম্বইয়ের প্রৌঢ়ের সঙ্গে হেরে গেলেন বিহারের ৩৮ বছরের যুবকও

করোনার জেরে লকডাউনের পথে পাকিস্তানও, বন্ধ হল আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল

এদিকে এখনও পর্যন্ত বিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ইতালিতে। ইউরোপের এই দেশে মৃতের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার ছুঁতে চলেছে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষের কাছাকাছি। তবে বিশ্ব করোনা সংক্রমণে কাবু হলেও মারণ ভাইরাসটির এপি সেন্টার চিনে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।