চলন্ত ট্রেনে অসুস্থ শিশু, মায়ের পাশে রেল! ভিডিও দেখে মুগ্ধ নেটপাড়া

চলন্ত ট্রেনে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়লে যে কোনও বাবা-মায়েরই দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এক পরিবারের জন্য এই ঘটনাই হয়ে উঠল ভারতীয় রেলের উপর ভরসার কারণ। ভাবনা নামে এক ডেন্টিস্ট নিজের ইনস্টাগ্রামে এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত ১৩ মার্চ বেঙ্গালুরু থেকে গুজরাট যাওয়ার পথে ট্রেনে তাঁর ছোট্ট শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে তিনি দেখান, সজনে ডাঁটার স্যুপ খাওয়ার পর তাঁর বাচ্চাটি বমি করতে শুরু করে। এরপর কী করবেন, তা ভেবে বাবা-মা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ভিডিওর টেক্সটে তিনি লেখেন, “আমি আতঙ্কিত হয়ে TTE-কে জিজ্ঞেস করি, ট্রেনে ওষুধ পাওয়ার কোনও উপায় আছে কি না। সত্যি বলতে, খুব বেশি আশা করিনি।”

কিন্তু এরপর যা ঘটল, তাতে তিনি রীতিমতো অবাক। সাধারণ প্রাথমিক চিকিৎসার বদলে রেলের কর্মীরা দ্রুত সাহায্যের ব্যবস্থা করে দেন। ট্রেনটি হিন্দুপুর স্টেশনে পৌঁছতেই একজন ডাক্তার শিশুটিকে দেখার জন্য প্ল্যাটফর্মে হাজির ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। এতেই স্বস্তি ফেরে বাবা-মায়ের।

ভিডিওতে আরও লেখা ছিল, “ওঁরা চিকিৎসার জন্য একটা পাকা বিলও দেন। আমি সত্যি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম এবং কৃতজ্ঞ যে ওঁরা এত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন।”

নিজের ক্যাপশনে ভাবনা পুরো ঘটনাটার সারসংক্ষেপ করে লেখেন, “চলন্ত ট্রেনে আতঙ্ক থেকে স্বস্তি। আমার বাচ্চার সাহায্য দরকার ছিল আর সেটা কল্পনার চেয়েও দ্রুত পেয়েছি।”

ভাইরাল ভিডিওটি দেখুন

View post on Instagram

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার ঝড়

এই ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার পরেই ভাইরাল হয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত ২.৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এটি দেখেছেন এবং অনলাইনে প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেক যাত্রীই রেলকর্মীদের এই তৎপরতার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে যাত্রার সময় এই ধরনের দ্রুত সাহায্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা অনেকেই তুলে ধরেছেন।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যখন সাহায্য করা সম্ভব, ভারতীয় রেল ঠিক পরের স্টেশনেই তার ব্যবস্থা করে দেয়। এই পরিষেবাকে সত্যিই সম্মান জানানো উচিত। ভারতীয় রেলকে স্যালুট।”

আরেকজন লিখেছেন, “আমাদের রেলের ভালো দিকটা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। এত ভিড়ের মধ্যেও যে এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে সহানুভূতি ও সহমর্মিতার সঙ্গে কাজ করা হয়, তা জেনে ভালো লাগল।”

অন্য একজন নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, “আমারও একবার হঠাৎ পেটে ব্যথা শুরু হয়েছিল। তিনটে স্টেশন পরেই আমি নিজের বার্থে ওষুধ পেয়ে যাই। তখন রাত ১:৫০। ভারতীয় রেলকে অনেক ধন্যবাদ।”