রেল-নেটওয়ার্কে দূষণের মাত্রা কমানোর জন্য় বেশ কিছুদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে রেলমন্ত্রক। এবার সেই পরিকল্পনায় লক্ষ্য় স্থির করল ভারতীয় রেল। আর সেজন্য়ই ২০২৪ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ রেলপথ বৈদ্যুতিকীকরণ করা হবে। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ‌্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবিষয়ে জানান যে, তারা তাদের পরিবেশ সম্পর্কে অত‌্যন্ত সচেতন। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে রেল-নেটওয়ার্কের পুরোটাই হবে  'নিট-জিরো এমিশন নেটওয়ার্ক'।  অর্থাৎ, ভারতের রেল নেটওয়ার্ক ভবিষ্য়তে সম্পূর্ণভাবে দূষণ মুক্ত হবে।

আরও পড়ুন, প্রেমিকা সাজিয়ে অন্য তরুণীকে খুন, বিয়ের নেশায় নৃশংস ষড়যন্ত্র

 ইন্ডিয়া-ব্রাজিল বিজনেস ফোরামের এক আলোচনাসভায় রেলমন্ত্রী গোয়েল জানিয়েছেন,  পরিবেশের প্রতি  দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারা বদ্ধপরিকর। তাই ২০২৪ সালের মধ্যে রেল নেটওয়ার্কের যতটা সম্ভব ইলেকট্রিকের আওতায় নিয়ে আসা যায় তার চেষ্টা করা হবে। আশা করা হচ্ছে এই সময়ের মধ্যে সব ট্রেন ইলেকট্রিকে চালানো শুরু হয়ে যাবে। নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে রেল থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৬.৮৪ মিলিয়ন টন। এই পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আর তার একমাত্র উপায় হল বৈদ্যুতিক ট্রেন চালানো। ক্রমে সেই পথেই এগোচ্ছে ভারত।

আরও পড়ুন, 'উপহার' পাঠিয়ে ওমরের সঙ্গে কুৎসিত রসিকতা, চাপে পড়ে গিলতে হল বিজেপি-কেই

 গত বছরই বৈদ্যুতিক ট্রেনের মাধ্যমে পুরো রেল-নেটওয়ার্ক চালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন গোয়েল। তিনি বলেছিলেন, সারা দেশে বৈদ্যুতিক ট্রেন চলতে শুরু করলে কয়লার জোগান দেওয়া খনিগুলোকে অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে দেশের সম্পদের কার্যকারিতা আরও কয়েকগুণ বাড়বে। উল্ল্য়েখ্য়, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক ভারতের। আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিনের পরেই ভারতের রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে। ভারতের মোট ৬৭ হাজার ৩৬৮ কিমি দীর্ঘ রেল লাইন রয়েছে। সারা ভারতে সবমিলিয়ে মোট ৭,৩০০ স্টেশন রয়েছে। এবং প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার প্যাসেঞ্জার ট্রেনে ২ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ ভ্রমণ করেন। তাই দেশবাসীকে আরও সুরক্ষিত এবং দ্রুত রেল পরিষেবা দিতে ১০০ শতাংশ রেলপথ বৈদ্যুতিকীকরণ করতে চায় ভারতীয় রেল।