দেশব্যাপী এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতির (LPG Shortage) কারণে এবার রেল ট্রেনে খাবার নাও মিলতে পারে। রান্নার গ্য়াসের ঘাটতির কারণে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) ট্রেনে রান্না করা খাবার পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা বিবেচনা করছে। আগেই খাবার বুকিং করা যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
দেশব্যাপী এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতির (LPG Shortage) কারণে এবার রেল ট্রেনে খাবার নাও মিলতে পারে। রান্নার গ্য়াসের ঘাটতির কারণে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) ট্রেনে রান্না করা খাবার পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা বিবেচনা করছে। আগেই খাবার বুকিং করা যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। আইআরসিটিসি-র ক্যাটারিং লাইসেন্স থাকা সংস্থাগুলিকে যাত্রীদের জন্য খাবার পরিষেবা বজায় রাখার জন্য ইতিমধ্য়েই নির্দেশ দিয়েছে। রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এলপিজি ঘাটতি আইআরসিটিসির বেস রান্নাঘরগুলিকে প্রভাবিত করছে। এই রান্নাঘরগুলিতে ট্রেনের যাত্রীদের জন্য খাবার তৈরি করা হয়। প্যান্ট্রি কারগুলি মূলত খাবার গরম করে তা যাত্রীদের মধ্যে দেওয়ার কাজ করে।
১০ মার্চ (মঙ্গলবার) তারিখের একটি চিঠিতে আইআরসিটিসি রেল স্টেশনগুলিতে ফুড প্লাজা, রিফ্রেশমেন্ট রুম এবং জন আহার আউটলেটগুলিকে এলপিজি-র ঘাটতির ক্ষেত্রে বিকল্প রান্নার পদ্ধতি বেছে নেওয়ার জন্য বলেছে। আইআরসিটিসি ক্যাটারিং অপারেটরদের মাইক্রোওয়েভ এবং ইন্ডাকশন কুকটপের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে বলেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, "পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে প্রভাব পড়ছে, তাই সকল ফুড প্লাজা, রিফ্রেশমেন্ট রুম এবং জন আহারে ক্যাটারিং পরিষেবা নিরবচ্ছিন্ন থাকা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি, যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে ইউনিটের মধ্যে রেডি টু ইট (RTE) খাবারের পর্যাপ্ত মজুত রাখতে হবে।" এই আদেশ চলমান ট্রেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কেবল স্টেশনগুলিতে অবস্থিত দোকানগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
রেলের কর্তারা জানিয়েছেন যে আইআরসিটিসি তার বেস রান্নাঘর এবং অনবোর্ড ক্যাটারিং পরিষেবার মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রতিদিন প্রায় ১৭ লক্ষ খাবার সরবরাহ করে। আইআরসিটিসি জানিয়েছে যে এই ব্যবস্থাগুলি রেল স্টেশনগুলিতে ক্যাটারিং পরিষেবা বজায় রাখার জন্য এবং সরবরাহ ব্যাহত হলে যাত্রীদের অসুবিধা কমানোর জন্য করা হয়েছে। ক্যাটারারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তাদের অঞ্চলে এলপিজি সরবরাহ প্রভাবিত বা বন্ধ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে।
আমেরিকা-ইজরায়েল (America Israel) এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। এই সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে রান্নার গ্যাসের (LPG) সিলিন্ডার প্রতি একধাক্কায় ৬০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মেও বড় বদল আনা হয়েছে। এখন থেকে পরবর্তী সিলিন্ডারের জন্য ২১ দিনের পরিবর্তে ২৫ দিন অন্তর বুকিং করা যাবে। এছাড়াও, দেশজুড়ে গ্যাসের আকাল হলে কারা আগে পাবেন সিলিন্ডার, কারা পরে, তা স্পষ্ট জানাল কেন্দ্র। সরকার জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত কিছু ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহে কোনও কাটছাঁট হবে না। যে গ্যাস সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ির রান্নাঘরে পৌঁছায়, সেই পরিষেবায় প্রভাব পড়বে না। সিএনজি পরিষেবা বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে ১০০ শতাংশ বজায় রাখা হবে। যানবাহন, অটো এবং গণপরিবহনে গ্যাস সরবরাহ চলবে। গৃহস্থালির গ্যাস সরবরাহে কোনও সমস্যা হবে না। রান্নার গ্যাসে কোনও কাটছাঁট করা হবে না। শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্যাসের বরাদ্দ কমানো হতে পারে। চা শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে গত ৬ মাসে যে হারে গ্যাস ব্যবহৃত হয়েছে সেটার ৮০ শতাংশ সরবরাহ করা হবে। সার উৎপাদন সংস্থার ক্ষেত্রে বরাদ্দ করা হবে গত ছ’মাসের ৭০% গ্যাস। তেল শোধনাগার সরবরাহ করা হবে ৬৫% গ্যাস। রেস্তরাঁগুলির জন্য বরাদ্দ গ্যাসের সরবরাহ নির্ধারণ করার জন্য পৃথক কমিটি গড়া হচ্ছে।
