সীমান্তে উত্তেজনার জের। এবার দিওয়ালি উপলক্ষে ভারতের পাঠানো মিষ্টি প্রত্যাখ্যান করল পাকিস্তান। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং পাকিস্তানি রেঞ্জার্সরা ভারতের তরফে দেওয়া মিষ্টি প্রত্যাখ্যান করেছে। 

একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, 'প্রোটোকল মেনে প্রতি বছরই ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের উচ্চ পদাধিকারী এবং সরকারি সংস্থায় দিওয়ালির মিষ্টি পাঠানো। এ বছরও প্রাথমিকভাবে সেই মিষ্টি গ্রহণ করলেও পরে তার সবটাই ফিরিয়ে দিয়েছে পাক সেনার অধীনে থাকা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। 

শুধু আইএসআই নয়, পাকিস্তানের রেঞ্জার্স বাহিনীও এ বছর ভারতের দেওয়া মিষ্টি নিতে চায়নি। কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের পারদ আরও চড়েছে। পাল্লা দিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে সীমান্তে। ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিযোগ জানাতে গিয়েও বার বার মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের। তারই জেরে পাকিস্তানের তরফে দিওয়ালির উপহার বয়কট করা হল বলেই মনে করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন- চলছে খতম জঙ্গির সংখ্যা গোনা, রাজনাথের নির্দেশেই কি প্রত্যাঘাত, সেনা প্রধানের বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা

আরও পড়ুন- শিশুদের নিয়ে ভারত বিরোধী জঙ্গি ব্রিগেড পাকিস্তানের, ভিডিও-তে কড়া হুমকি

গত কয়েকদিন ধরেই সীমান্তে লাগাতার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে পাক সেনা। উপযুক্ত জবাব দিয়েছে ভারতও। গত সপ্তাহের শেষেই পাক হামলার জবাব দিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনা। তাতে বেশ কিছু জঙ্গির পাশাপাশি কয়েকজন পাক সেনারও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই অবস্থায় ভারতের পাঠানো মিষ্টির স্বাদ খুব উপভোগ্য হবে না পাকিস্তানের কাছে। সেই কারণে দিওয়ালির উপহরাই বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিল পাক সেনার অধীনে থাকা আইএসআই এবং রেঞ্জার্সরা। 

পাক সরকার বরাবরই সেদেশের সেনার দ্বারা প্রভাবিত। এবারে সরাসরি পাক সরকারের তরফে মিষ্টি বয়কটের ঘটনা না ঘটলেও পাক সেনার অধীনে থাকা রেঞ্জার্স এবং আইএসআই সেই পথে হাঁটল। একই পথে হেঁটে ইমরান খান সরকারের অন্যান্য দফতরও একই পথে হাঁটবে কি না, সেটাই এখন দেখার। তবে পাকিস্তানের তরফে এই সিদ্ধান্ত যে দু' দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত করে তুলবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। প্রতি বছরই ইদ, দিওয়ালির মতো উৎসবে সীমান্তে দু' দেশের বাহিনীর মধ্যে মিষ্টি বিনিময় হওয়াটা পরিচিত ছবি। এবার সেই রীতিতেও ছেদ টানল ইসলামাবাদ। ভারতের সঙ্গে যখনই সম্পর্ক খারাপ হয়েছে, গোঁসা করে এমন সিদ্ধান্ত বার বারই নিয়েছে পাকিস্তান।