শিশুরা ভগবানের অবতার। এমনই মানা হয় বিশ্বজুড়ে। কিন্তু পাকিস্তানের মৌলবাদীরা সেই কথা বুঝতে পারলে তো হয়ে গিয়েছিলো। আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় ভারত সমানে পাকিস্তানের মুখে ঝামা ঘষে দিচ্ছে, তবুও তাতে ইমরান খানরা ক্ষান্ত হতে চাইছেন না। এবার এমন একটি ভিডিও ইন্টারনেটে আপলোড করা হয়েছে যেখানে দেখা গিয়েছে পাকিস্তানের একদল শিশু ভারতকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। এমনকী, ভিডিও-টিতে শিশুদের মুখ দিয়ে এমন সব চরমপন্থা এবং উস্কানিমূলক বাক্য বলানো হয়েছে যা শিশু-র মৌলিক অধিকার-কে লঙ্ঘন করে। 

পাকিস্তানের সন্ত্রাস মনোভাবের শিকড় কতটা গভীর পর্যন্ত প্রোথিত, এই নিয়ে বারবার আন্তর্জাতিক দুনিয়ার সামনে সওয়াল করেছে ভারত। নিরাপত্তা পরিষদে ভারত-সহ সন্ত্রাসদীর্ণ বিশ্বের বহু দেশই বারবার পাকিস্তানকে জঙ্গি রাষ্ট্র বলে ঘোষণার জন্য সওয়াল করেছে। কিন্তু, চিন-সহ কিছু দেশের বদান্যতায় বারংবার বেঁচে যাচ্ছে পাকিস্তান। 

পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার সময়-ই ফের একবার আন্তর্জাতিক দুনিয়ার সামনে পাকিস্তানের মাটিতে চলা সন্ত্রাস প্রশিক্ষণ শিবিরের আটক শিশুদের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু, অবলিলাক্রমে এই চরম সত্যকে অস্বীকার করে ইসলামাবাদ। বিশ্বের সামনে পাকিস্তান আসলে যে সন্ত্রাস নিমূলের শপথ পাঠের নামে এক ডাহা মিথ্যে কথা বলে যাচ্ছে তা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে ভারত। 

ইসলামি জামায়েত ই তালাবা নামে একটি মৌলবাদী ইসলামি ছাত্র সংগঠন এই ভিডিও-টি ইউটিউবে আপলোড করেছ। ১৯৪৭ সালে এই সংগঠনটির জন্ম। এদের উদ্দেশ্যই হলো ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ইসলামের প্রতিষ্ঠা এবং সমস্ত অমুসলিম অস্তিত্ব-কে নির্মূল করা। লাহোরে এদের মূল ঠিকানা। কিন্তু এই মুহূর্তে এই সংগঠনটি পাকিস্তান জুড়ে ছেয়ে রয়েছে। 'আজাদ-ই-কাশ্মীর' নামে একটি কনভেশনেরও আয়োজন করেছিল এই মৌলবাদী ছাত্র সংগঠন। সেই উপলক্ষে এই ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল করা হয়। 

এই ভিডিওটি-তে যা দেখানো হয়েছে তাতে তা ভারতবর্ষের সম্মানকে লঘু-ই করছে না সেইসঙ্গে শিশু-দের মনে যেভাবে জঙ্গি কার্যকলাপের চিন্তা-ভাবনা-কে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার প্রমাণ মেলে। সেই কারণে আমরা এই ভিডিও-টি পাঠকদের সামনে আনছি না। তবে, ভিডিও-তে বলা কতগুলি লাইন পাঠকদের সামনে আমরা তুলে ধরছি এবং সেইসঙ্গে কিছু স্ক্রিনশট প্রকাশ করছি। 

ভিডিও-র একদম শুরুতে একটি শিশুকন্যা-কে বলতে দেখা গিয়েছে যে ভারত জয়ের পর সে ভারতীয় সেনাদের দিয়ে রাস্তা পরিস্কারের কাজ করাবে এবং বাবাকে বলবে গোয়া-তে একটা সুন্দর বাড়ি বানাতে। 

ভিডিও-তে এই শিশুটি বলছে যে তাদের পক্ষে হিন্দি বলা ও লেখা সম্ভব নয় তাই উর্দূতেই সমস্ত কাজ করা হবে।

ভিডিও-র আর একটি অংশে একটি শিশু-কে বলতে শোনা যাচ্ছে 'কত মজা হবে যখন দিল্লি গেটে গান গাইতে গাইতে কাবাব খাবো।'

আরএক বালককে দিয়ে বলানো হয়েছে তারা তাজমহলকে পাকিস্তানের শৌর্যের প্রতীক বানাবে। 

এক বালিকা আবার ভিডিও-তে বলেছে যে ভারত জয় করার পর সে তার পরিবারের সঙ্গে সিমলা ঘুরতে আসবে। 

আরএক বালক তো বলেই ফেলেছে যে সে নাকি সারা ভারতকে উন্মুক্ত প্রস্রাবখানায় পরিণত করবে। 

এখানেই শেষ নয়, এক বালককে অনেকটা নেতা গোছরের মতো ভিডিও-তে হাজির করানো হয়েছে। তাকে দিয়ে আরএসএস-কে হুমকি দেওয়ানো হয়েছে। সেই বালক আবার বলেছে সমস্ত মুসলিমদের হত্যার বদলা নেবে সে এবং হিন্দুস্তান-কে পাকিস্তান বানিয়ে ছাড়বে। পরিশেষে এবার ভারতের মানচিত্রের উপর সবুজ রঙ লেপে তাতে আবার পাকিস্তানের পতাকা এঁকে দেওয়া হয়েছে। 

এই ভিডিওটি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। এমনকী পাকিস্তানের বেশকিছু সাংবাদিক এই ভিডিও-র চরম নিন্দা করে সোশ্যালমিডিয়ায় পোস্টও করেছেন। এই ধরনের ভিডিও পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে আরও নিচে নামিয়ে দিচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। শিশুদের দিয়ে এমন ভিডিও তৈরির জন্য ইসলামি জামায়েত ই তালাবা-র বিরুদ্ধেও অনেকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক অবশ্য এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। 

এর আগে ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান প্রচুর বড় বড় কথা বলে ভারতকে আক্রমণ করেছিল। পাকিস্তানি সেনারা বলেছিল তারা দিল্লি জয় করে ক্ষান্ত হবে। কিন্তু, ভারতীয় সেনাদের প্রত্যাঘাতে পাক সেনাদের ত্রাহি-ত্রাহি রব ওঠে। এমনকী লাহোর ভারতীয় সেনাদের কব্জায় চলে আসার উপক্রম হয়েছিল। শেষমেশ রাষ্ট্রসংঘের কাছে প্রার্থনা করে সে যাত্রায় কোনওমতে রক্ষা পেয়েছিল পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করাদের মতে পাকিস্তান এত বছরে সন্ত্রাস নিমূর্লে কোনও সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেনি উল্টে শিশুদের-মনে চরমপন্থা ঢুকিয়ে দেশেরই সর্বনাশ করেছে। যার আরও প্রমাণ এই ভিডিও।