চিনের গুয়াংঝো জুয়ান ইন্টেলিজেন্ট টেক জয়েন্ট স্টক কোং লিমিটেড দ্বারা নির্মিত ইসিক্লাউড (EseeCloud) চিনের ডেটা সেন্টারগুলিতে সরাসরি ফুটেজ পাঠাচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে সেই তথ্য পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তদন্ত থেকে এই সংবেদনশীল তথ্যগুলো উঠে এসেছে।

জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিস্ফোরক খবর সামনে আসছে। চিনা সিসিটিভি সিস্টেম ব্যবহার করে পাকিস্তানের আইএসআই গোপন অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে কৌশলগত পরিকাঠামোর কাছে থাকা ক্যামেরার সাহায্যে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা রিয়েল টাইমে সামরিক গতিবিধি এবং সরঞ্জাম সরবরাহ পর্যবেক্ষণ করেছে। তদন্তকারীদের মতে, এর উদ্দেশ্য ছিল নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনও সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামোকে নির্ভুলভাবে আঘাত হানা। দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা বিজনেসলাইনকে জানিয়েছেন, গত প্রায় তিন মাস ধরে আইএসআই পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ঘাঁটি থেকে ন'টি সৌরশক্তিচালিত সিম-যুক্ত ডিভাইসের মাধ্যমে সরাসরি ভিডিও ও তথ্য পাচ্ছিল। এই ডিভাইসগুলো সিসিটিভি ও নজরদারি সরঞ্জামের জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি চিনা সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ‘ইসিক্লাউড’-র সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।

চিনের ডেটা সেন্টারগুলিতে সরাসরি ফুটেজ

চিনের গুয়াংঝো জুয়ান ইন্টেলিজেন্ট টেক জয়েন্ট স্টক কোং লিমিটেড দ্বারা নির্মিত ইসিক্লাউড (EseeCloud) চিনের ডেটা সেন্টারগুলিতে সরাসরি ফুটেজ পাঠাচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে সেই তথ্য পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তদন্ত থেকে এই সংবেদনশীল তথ্যগুলো উঠে এসেছে। শুক্রবার এই সেল পাঞ্জাব ও দিল্লি থেকে তিনজন করে মোট ছ'জনকে গ্রেফতার করে আইএসআই এবং বাবর খালসা ইন্টারন্যাশনালের (বিকেআই) একটি গুপ্তচরবৃত্তির মডিউলের পর্দাফাঁস করেছে। গোয়েন্দারা পাকিস্তান সীমান্তের নিকটবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে সংবেদনশীল নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্রের কাছে ইসিক্লাউডের স্থাপন করা ন'টি সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্ধার করেছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি রোধ করতে সশস্ত্র বাহিনীর উচিত তাদের কৌশলগত সম্পদগুলোর নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা, যাতে তাদের চত্বরের ভেতরে ও বাইরে স্থাপিত সিসিটিভি-র দুর্বলতাগুলো যাচাই করা যায়।

গেম প্ল্যান

সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল—মানুষ ও যন্ত্রপাতির চলাচলের উপর দিনরাত অবিরাম নজরদারির মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা এবং ভারতের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ বেধে গেলে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা। এটি অনেকটা ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ (Mossad) এবং ইউনিট ৮২০০ (Unit 8200)-এর সেই গোপন অভিযানের মতোই, যা তারা তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা নেটওয়ার্ক ও নজরদারি ব্যবস্থায় হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চালিয়েছিল বলে জানা যায়। 'ক্যাপ্টেন রানা' ছদ্মনামের এক আইএসআই (ISI) হ্যান্ডলার এই ভারতীয় মডিউলটির তদারকি করছিল। জানা গেছে, তারা 'বিকেআই' (BKI)-এর সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করেছিল। এছাড়া গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে আইএসআই-এর নির্দেশিত নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে 'EseeCloud' ব্র্যান্ডের সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কাজে তারা স্পেন, জার্মানি এবং দুবাই জুড়ে ছড়িয়ে থাকা 'স্লিপার সেল' বা গোপন আস্তানাগুলোকে কাজে লাগিয়েছিল। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, একটি পরিবহন ব্যবসার আড়ালে ট্রাক চলাচলের উপর নজর রাখার অজুহাতে এই সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো লাগানো হয়েছিল। আর এই অভিযানের মূল হোতা ছিল দুবাই-ভিত্তিক এক ভারতীয় অপারেটর। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (স্পেশাল সেল) প্রমোদ সিং কুশওয়াহ বলেন, “এই স্থানগুলোর মধ্যে ছিল পাঞ্জাবের কাপুরথালা, জলন্ধর, পাঠানকোট, পাতিয়ালা ও মোগা। এছাড়া হরিয়ানার আম্বালা, জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া এবং রাজস্থানের বিকানের ও আলওয়ারও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।” পুলিশের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, একটি 'EseeCloud' যন্ত্রাংশ স্থাপনের সামগ্রিক খরচ পড়ে প্রায় ১৫,০০০ টাকা। যার মধ্যে কেবল ক্যামেরাটির দামই ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকার মধ্যে। অভিযুক্তরা ইউপিআই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ পাচ্ছিল, যার একটি অংশ এই চোরাচালান করা অস্ত্র বিক্রির অর্থ থেকে আসত।