রাস্তায় বিচারকের গাড়িকে জায়গা ছেড়ে দেননি তিনি। এই 'অপরাধে' এক পুলিশকর্মীকে ভরা এজলাসে উর্দি খুলিয়ে এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখলেন সেই বিচারক। এমন বিতর্কিত শাস্তি দিয়ে অবশ্য নিজেই বিপাকে পড়েছেন ওই বিচারক। বিষয়টি সামনে আসার পরে তাঁকেই ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আগরায়। যে পুলিশ কনস্টেবলকে বিচারক এইভাবে অপদস্থ করেন বলে অভিযোগ, তাঁর নাম ঘুরে লাল। তিনি পুলিশের ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। 

আরও পড়ুন- কামড়, আঁচড়, ওয়্যারলেসে নির্দেশ, যুবককে উদ্ধার করতে গিয়ে নাজেহাল পুলিশ

আরও পড়ুন- কার্গিলে চার পাকিস্তানিকে নিকেশ করেছিলেন, এখন যানজট সামলান সৎপল

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গাড়িতে করে দুই বিচারাধীন বন্দি এবং কয়েকজন পুলিশকর্মীকে নিয়ে গত শুক্রবার সকালে স্থানীয় একটি আদালতের দিকে যাচ্ছিলেন ঘুরে লাল। অভিযোগ, সেই সময় অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সন্তোষ কুমারের গাড়িও ওই পথে যাচ্ছিল। ঘুরে লালের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিচারকের গাড়িকে যাওয়ার জায়গা ছেড়ে দেননি। 

আদালত বসতেই ঘুরে লালকে ডেকে পাঠান বিচারক। সেখানেই উর্দি খুলিয়ে খালি গায়ে তাঁকে এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে শাস্তি দেন বিচারক। আটত্রিশ বছর পুলিশে চাকরি করার পরে ভরা এজলাসে এ ভাবে অপদস্থ হওয়া মেনে নিতে পারেননি ঘুরে লাল। আদালত থেকেই তিনি সটান চলে যান এসএসপি-র দফতরে। সেখানেই গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন তিনি। জানিয়ে দেন, যেভাবে তাঁকে অপদস্থ করা হয়েছে, তাতে মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত। 

এর পরেই নড়েচড়ে বসেন পুলিশের বড়কর্তারা। এলাহাবাদ হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি লিখে বিচারকের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয়। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি-ও ঘুরে লালের সমর্থনে টুইট করেন। এর পরেই ওই বিচারককে বদলি করা হয়। 
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি ওমপ্রকাশ সিং বলেন, 'আদালতের মধ্যে ওই কনস্টেবলের উর্দি খুলে দাঁড় করিয়ে রাখার বিষযটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। বিষয়টি যথাযথ জায়গায় জানানোও হয়েছে। পুলিশের প্রত্যেক কর্মী যাতে প্রাপ্য সম্মান পান, তা নিশ্চিত করতে পাশে থাকব আমরা। সবার কাছে অনুরোধ, উর্দিধারী বাহিনীকে যথাযথ সম্মান করুন।