পথচলতি মানুষকে কামড়াচ্ছিল সে। রাগে শুরু হয়েছিল পাল্টা গণপিটুনি। মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে জনতার রোষ থেকে বাঁচাতে গিয়ে উল্টে কামড় খেল পুলিশও। মাঝে পুলিশের জিপ থেকে ওয়্যারলেসে কন্ট্রোল রুমে ভুলভাল নির্দেশও দিয়ে দিল ওই যুবক। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসককেও কামড় বসিয়ে পাভলভ মানসিক হাসপাতালে ঠাঁই হল মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকের। শনিবার এ ভাবেই মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে সামলাতে গিয়ে ল্যাজেগোবরে অবস্থা হল পুলিশকর্মীদের। 

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে হাও়ড়ার বালি থানা এলাকায়। পুলিশ খবর পায়, মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক এলাকার বেশ কয়েকজন মানুষকে কামড়ে, আঁচড়ে দিচ্ছে। খবর পেয়ে তাঁকে ধরতে যায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে যখন পুলিশ পৌঁছয়, ততক্ষণে জনতা ওই যুবককে উত্তম মধ্যম দিতে শুরু করেছে। ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। তখন উল্টে পুলিশকর্মীদেরই কামড়ে দেন তিনি। এর পর পুলিশের জিপে তোলা হলে গাড়ির মধ্যে থাকা ওয়্যারলেস সেট হাতে নিয়ে কন্ট্রোল রুমে নির্দেশ দিতে শুরু করেন ওই যুবক। 

কোনওক্রমে হাত, পা বেঁধে যুবককে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন পুলিশকর্মীরা। এবার শুরু হয় তাণ্ডবের দ্বিতীয় পর্ব। এবার গাড়ি থেকে নামানোর সময় এক পুলিশকর্মীকে কামড়ে দেন ওই যুবক। পরে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক এবং কয়েকজন রোগীকেও সে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়। যুবকের মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন বলে তাঁকে কলকাতার পাভলভ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার গাড়িতে তুলতে গেলে পুলিশের লাঠি কেড়ে নিয়ে পুলিশকর্মীদেরই মারতে উদ্যত হয় ওই যুবক। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় তাঁকে বাগে আনেন পুলিশকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত তাঁকে কলকাতার পাভলভ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। 

পুলিশকে ওই যুবক জানিয়েছে, তাঁর নাম ললিত কুমার চৌধুরী। তিনি বিহারের সমস্তপুরের বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন ওই যুবক। তাঁর পরিবারকে খুঁজে বের করার চেষ্টাও করছে পুলিশ। তবে দিনভরের তাণ্ডবের ক্ষতবিক্ষত পুলিশকর্মীরা বলছেন, এর থেকে চোর- ডাকাত ধরা ঢের সহজ!