স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা আধুনিক সমাজে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। ২জি, ৩জি পেরিয়ে ৪জি পরষেবা উপভোগ করছে নেটিজেনরা। দেশকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও উন্নত করতে 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া' গড়ার স্বপ্নের কথা ক্ষমতায় এসেই ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া'র প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে গোটা বিশ্বে ৫জি পরিষেবা চালু করার কথা ভাবছে কেন্দ্র সরকার। তবে  ৫জি পরিষেবা চালুর বিরোধীতা করে আদালতের দ্বারস্থ হলেন অভিনেত্রী জুহি চাওলা।

পরিবেশ রক্ষা নিয়ে বরাবরই খুব সচেতন জুহি। নিজের ও বিভিন্ন এনজিও-র সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় নানা কর্মসূচিও করে থাকেন বলি অভিনেত্রী। দেশে ৫জি পরিষেবা চালু হলে পরিবেশের পাশাপাশি বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের ওপর শারীরিকভাবে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। তাই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ছাড়পত্র পাওয়ান না পর্যন্ত দেশে ৫জি পরিষেবার চালুর বিরোধীতা করে দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন জুজুহি চাওলা। এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, 'আমরা দেশের প্রযুক্তগত উন্নতির বিপক্ষে নই। আমরা প্রায় সকলেই বাজারে নতুন আসা ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আরএফ রেডিয়েশন নিয়ে আমাদের সকলের মধ্যেই একটা দ্বিধা কাজ করে। বেশ কিছু সমীক্ষা ও পরীক্ষানীরিক্ষার মাধ্যমে এর মধ্যেই আমরা জানতে পেরেছি মানুষ ও পশু-পাখিদের শরীরের জন্য এটা কতটা ক্ষতিকর।' 

যদিও জুহি চাওলার মতের সঙ্গে একমত নয় টেলিকম মন্ত্রক। ৫জি পরিষেবা চালু হল মানুষ ও জীবজন্তুর শরীরে কোনও ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছেন টেলিকম মন্ত্রকের তরফে। এমনকী এর আগে ২জি, ৩জি, ৪জি পরিষেবাতেও কোনও প্রভাব পড়েনি। সেলুলার অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর জেনারেল এস পি কোচার জানিয়েছেন, বিশ্বের বহু দেশ ৫ জি নেটওয়ার্কের সুবিধা পাচ্ছে। এই পরিষেবা কোনওরকম সমস্যা ছাড়াই  সাধারণ মানুষ ব্যবহার করছেন। বর্তমান সময়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের কথা চিন্তা করে এই পরিষেবার কথা ভাবছে কেন্দ্র সরকার। তবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত সার্টিফিকেট না পাওয়া পর্যন্ত দেশে ৫জি পরিষেবা চালুর বিপক্ষে জুহি চাওলা।