Karnataka Horror: কর্ণাটকের জনপ্রিয় পর্যটনস্থল গোকক ফলসের (Gokak Falls) কাছে বান্ধবীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক পুলিশ কনস্টেবল। এই হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
KNOW
Karnataka Shocking News: বিয়ের কথা বলতেই প্রেমিকাকে খুনের অভিযোগ উঠল এক পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার (Belagavi District) গোকক জলপ্রপাতের (Gokak Falls) কাছে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত তরুণীর নাম রক্ষিতা সারিকার (২৩)। অভিযোগ, বিয়ে নিয়ে দু'জনের মধ্যে বচসার জেরে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন তাঁর প্রেমিক বাসাপ্পা সাতান্নভার (২৯)। তিনি সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একজন কনস্টেবল। খুনের পর পাহাড়ি অঞ্চলে দেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ অক্টোবর এই ঘটনা ঘটে বলে অনুমান। তবে রক্ষিতার নিখোঁজ হওয়ার তদন্ত শুরু হওয়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরিবারের সদস্যরা ১ নভেম্বর তাঁর কোনও খোঁজ না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর তদন্তে নেমে রক্ষিতার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেখান থেকেই বাসাপ্পার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই কথিত খুনের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সামনে আসে। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়। বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন অভিযুক্ত।
সম্পর্কের টানাপোড়েনে খুন
কর্ণাটক পুলিশ জানিয়েছে, বেলাগাভি জেলার রায়বাগ তালুকের হারুগেরি গ্রামের বাসিন্দা রক্ষিতা। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বাসাপ্পার বাড়ি আথানি তালুকের আদালাহট্টি গ্রামে। প্রায় চার বছর ধরে দু'জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাসাপ্পা তাঁকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। দু'জনে প্রায়ই একসঙ্গে সময় কাটাতেন। কিন্তু রক্ষিতা বিয়ের প্রসঙ্গ তুললেই তাঁদের মধ্যে বিবাদ শুরু হত বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, বাসাপ্পা বিহারে সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) ২১ নম্বর ব্যাটালিয়নে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মসূত্রে কর্ণাটকের বাইরে থাকলেও, দু'জনের সম্পর্ক বজায় ছিল। ২৮ অক্টোবর বিয়ের বিষয়ে আলোচনার জন্য রক্ষিতাকে গোকক জলপ্রপাতে নিয়ে যান বাসাপ্পা। সেখানে দু'জনের মধ্যে বিয়ে নিয়ে তীব্র বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, সেই সময় রক্ষিতার কানের কাছে আঘাত করেন বাসাপ্পা। এরপর তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। পরে জলপ্রপাত সংলগ্ন একটি পাহাড়ি অঞ্চলে দেহ ফেলে রেখে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি। মেয়ের কোনও খোঁজ না পেয়ে ১ নভেম্বর পুলিশের দ্বারস্থ হন রক্ষিতার পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। রক্ষিতার মোবাইলের কল রেকর্ড পরীক্ষা করে বাসাপ্পার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টি জানতে পারেন তদন্তকারীরা। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, সেই জেরাতেই খুনের ঘটনার তথ্য সামনে আসে।
বিচারবিভাগীয় হেফাজতে অভিযুক্ত
অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় গোকক সিটি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই অপরাধ ঘটেছিল এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় সারা বেলাগাভি জেলাতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং তা নিয়ে বিবাদের জেরে এক তরুণীর এমন পরিণতির অভিযোগ ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।














