অসমের মন্ত্রী অতুল বোরা জানিয়েছেন, কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্কে এই বছর রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী, রাষ্ট্রপতি এবং ভুটানের রাজার সফরের ফলেই এই ভিড় বেড়েছে বলে তিনি মনে করছেন। পর্যটকদের থাকার জন্য রাজ্যে নতুন Hyatt এবং Taj হোটেল তৈরি করা হবে।

অসমের মন্ত্রী অতুল বোরা সোমবার জানিয়েছেন যে, কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক ও টাইগার রিজার্ভে এই বছর রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের আনাগোনা দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বদের সফরের ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে, আর সেই কারণেই এই ভিড়, এমনটাই মনে করছেন তিনি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সংবাদ সংস্থা ANI-কে অতুল বোরা বলেন, "এ বছর কাজিরাঙায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক আসছেন। শুধু দেশের ভেতর থেকে নয়, বিদেশ থেকেও। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, এমনকি ভুটানের রাজাও এখানে ঘুরে যাওয়ায় মানুষের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। আমরা প্রতি বছরের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখেছি, আর এ বছরেই পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি।"

পর্যটনের পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর সরকারের

পর্যটনের পরিকাঠামো আরও মজবুত করতে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেই বিষয়েও জানান অতুল বোরা। তিনি বলেন, পর্যটকদের থাকার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। "এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের জন্য হোটেলের প্রয়োজন ছিল। তাই অসম সরকার দুটি নতুন হোটেল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একটি Hyatt এবং অন্যটি Taj।"

পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ

মন্ত্রী আরও জানান যে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো করতে রাজ্যে নতুন কিছু আকর্ষণীয় কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। বোরা যোগ করেন, "আমরা একটি আন্তর্জাতিক অর্কিড পার্ক তৈরি করেছি, যার উদ্বোধন করেছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। এটি এখন কাজিরাঙার একটি প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সম্ভবত শ্রম কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে সরকার চা বাগানগুলিতে তিনটি টি-মিউজিয়াম বা চা জাদুঘর তৈরির সিদ্ধান্তও নিয়েছে।"

বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা, স্থানীয়দের উদ্যোগে নতুন আকর্ষণ

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক ও টাইগার রিজার্ভে ২০২৫-২৬ পর্যটন বর্ষে পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১ এপ্রিল, ২০২৫ থেকে ২৮ মে, ২০২৬-এর মধ্যে পার্কে মোট ৫,৪৮,৩১৯ জন পর্যটক এসেছেন, যার মধ্যে ৩২,৭৬৫ জন বিদেশী।

সরকারি রেকর্ড বলছে, ২০১৬-১৭ সালে এই ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১,৫৫,১০৭। অর্থাৎ, বছরের পর বছর ধরে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েই চলেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের মতে, এই ভিড় বাড়ার পেছনে বেশ কিছু নতুন পর্যটন উদ্যোগের ভূমিকা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পানবাড়িতে বার্ড সাফারি, কোহোরাতে সাইক্লিং, বিশ্বনাথে জিপ ও বোট সাফারি এবং "কাজিরাঙা বিয়ন্ড ন্যাশনাল পার্ক" কর্মসূচি। এছাড়াও, স্থানীয়দের দ্বারা পরিচালিত ইকো-শপ, স্থানীয় স্যুভেনিয়ার উদ্যোগ এবং সিলিমখোয়া গ্রামের হেমতাপ হিলে ট্রেকিং-এর মতো নতুন আকর্ষণ পর্যটকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে এবং একই সাথে স্থানীয় অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করছে।