অসমে গত দু’ দিনের প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। নতুন করে দু’ জনের মৃত্যু হওয়ায় বর্তমানে রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৮। অসম স্টেট ডিজাজটার ম্যানেজমেন্ট অথোরিটি জানিয়েছে, বন্যার প্রভাব পড়েছে রাজ্যের ৩০টি জেলায়। এই সব জেলায় মোট সাড়ে চার হাজার গ্রামে বন্যায় দুর্গত কমপক্ষে ৪৮ লক্ষ ৭ হাজার মানুষ।

আরও পড়ুন: প্রবাদ সত্যি হল বানভাসি কাজিরাঙায়, প্রাণ বাঁচাতে ছাগলের ঘরে আশ্রয় নিল বাঘ, দেখুন সেই ভিডিও

বন্যায় সব থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ধেমাজি, লখিমপুর, বিশ্বনাথ, শোণিতপুর, চিরাং, উদালগুড়ি, গোলাঘাট, জোরহাট, মাজুলি, শিবসাগর, ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া জেলাগুলির। রাজ্যে জুড়ে ৪৮৭টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে।

 

চলতি বছর  মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই বন্যা হচ্ছে অসমে। আমফানের দাপটে তিন দিনের প্রবল বৃষ্টিতে রাজ্যের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই বন্যার জল নামতে না নামতেই আবার ফের বন্যা দেখা দিল অসমে।

আরও পড়ুন: করোনা বাড়বাড়ন্তের মধ্যেই ফুঁসে চলেছে ব্রহ্মপুত্র, অসমের পর এবার বন্যায় ভাসছে সিকিমও

বন্যার কারণে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে  ৬৬ বন্যজন্তুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে অসমের বন দফতর। জাতীয় উদ্যানের ডিরেক্টর পি শিবকুমার বলেন, “গত বেশ কয়েক বছরের মধ্যে এটাই কাজিরাঙায় হওয়া সব থেকে ভয়াবহ বন্যা। এখনও পর্যন্ত ৬৬ বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছেন। ১৭০টি প্রাণীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবারই  অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল কাজিরাঙা  সফর করেন। 

 

 

এদিকে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের বড় অংশ জলের তলায় চলে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীরা এখন উঁচু জায়গায় আশ্রয় খুঁজছে। জল থেকে বাঁচতে কয়েকদিন আগেই ছাগলের ঘরে আশ্রয় নিতে দেখা গিয়েছিল একটি বাঘকে। এবার বানভাসি কাজিরাঙায় মায়ের থেকে আলাদা হয়ে গেল ছোট্ট এক গণ্ডার ছানা। শেষ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখন তার মাকে  খুঁজে পাওয়া যায়নি। মায়ের খোঁজ চালাচ্ছেন বনকর্মীরা।

 

 

জানা গিয়েছে, যে গণ্ডার শাবকটি হারিয়ে গিয়েছিল সেটি একটি একশৃঙ্গ বিশিষ্ট মেয়ে গণ্ডার। বন্যার জলের তোড়ে ভেসে স্থানীয় গ্রামে চলে গিয়েছিল এই গণ্ডার ছানা। তাকে উদ্ধার করে কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক এবং টাইগার রিজার্ভের কর্মীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে গণ্ডার ছানাকে উদ্ধারকাজের ভিডিও। সেখানে দেখা গিয়েছে একটি ডিঙি নৌকো করে গণ্ডারটিকে নিয়ে আসা হচ্ছে। তার পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করে বিদায় জানাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। আপাতত একটি সংরক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে গণ্ডার শাবকটিকে।

 

 

বাচ্চা গণ্ডারটির মাকে এখন খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বনকর্মীরা। অসমের কাজিরাঙা বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির গন্ডারের বাসস্থান। সেখানকার আগ্রাতলি রেঞ্জ থেকে বন্যার জলে ভেসে গিয়েছিল এই গণ্ডার শাবক। তার আগে পর্যন্ত অবশ্য মায়ের সঙ্গেই ছিল সে। তাই বনকর্মীদের অনুমান হয়তো আশেপাশেই কোথাও রয়েছে গণ্ডার ছানাটির মা।