উত্তরাখণ্ডে চার ধাম যাত্রা শুরু হয়ে গেছে ১৯ এপ্রিল থেকে। গঙ্গোত্রী-যমুনোত্রীর পর এবার ২২ এপ্রিল খুলবে কেদারনাথ মন্দিরের দরজা। বাবা কেদারনাথের দরজা খোলার পরেই প্রথমে 'ভীষ্ম শৃঙ্গার' সরানো হবে। আসুন, জেনে নিই এই প্রথাটি ঠিক কী।

Kedarnath Mandir Opening 2026: প্রতি বছর অক্ষয় তৃতীয়া থেকে উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত চার ধাম যাত্রা শুরু হয়। এই যাত্রাপথে পড়ে গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদারনাথ এবং বদ্রীনাথ ধাম। ১৯ এপ্রিল গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী মন্দিরের দরজা দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এবার ২২ এপ্রিল বাবা কেদারনাথ মন্দিরের দরজাও সাধারণ ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। মন্দির খোলার পর প্রথমেই বাবা কেদারনাথের 'ভীষ্ম শৃঙ্গার' সরানো হয়। চলুন, এই শৃঙ্গারের পেছনের বিশেষত্ব জেনে নেওয়া যাক।

কী এই ভীষ্ম শৃঙ্গার? কেন করা হয়?

শীতকালে কেদারনাথ মন্দির বন্ধ থাকে, কারণ এই সময় এখানে প্রবল বরফ পড়ে। প্রতি বছর দীপাবলির আশেপাশে কেদারনাথ মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তা অক্ষয় তৃতীয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকে। মন্দির বন্ধ করার আগে কেদারনাথের শিবলিঙ্গের 'ভীষ্ম শৃঙ্গার' করা হয়।

এই শৃঙ্গারের সময় শিবলিঙ্গের উপর ৬ লিটার খাঁটি ঘিয়ের প্রলেপ দেওয়া হয়। তারপর একটি বিশেষ ধরনের সাদা সুতির কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এটা করার কারণ হলো, যাতে শীতের প্রকোপে শিবলিঙ্গের কোনও ক্ষতি না হয় এবং সেটি প্রাকৃতিক রূপে বজায় থাকে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কারা করেন বাবা কেদারনাথের এই বিশেষ শৃঙ্গার?

বাবা কেদারনাথের এই ভীষ্ম শৃঙ্গার করেন কর্ণাটকের বীরশৈব লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের পুরোহিতরা। এই পুরো কাজটা করতে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। শৃঙ্গারের পর বাবা কেদারনাথকে মরসুমি ফল এবং ড্রাই ফ্রুটসের ভোগ দেওয়া হয়, যাকে 'আর্ঘা' বলা হয়। এরপরই কেদারনাথ ধামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কারা খোলেন কেদারনাথ ধামের দরজা?

অক্ষয় তৃতীয়ার পর কর্ণাটকের সেই বীরশৈব লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের পুরোহিতরাই কেদারনাথ ধামের দরজা খোলেন এবং সবার আগে ভীষ্ম শৃঙ্গার সরিয়ে ফেলেন। এরপর বিশেষ মন্ত্র উচ্চারণ করে গঙ্গাজল দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করা হয়। তারপর পঞ্চামৃত দিয়ে স্নান করিয়ে বাবা কেদারনাথকে নতুন ফুল, ভস্ম এবং চন্দনের তিলক দিয়ে সাজানো হয়। এরপর সাধারণ ভক্তরা দর্শন করার সুযোগ পান।


Disclaimer
এই প্রতিবেদনে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ, পণ্ডিত এবং জ্যোতিষীদের থেকে নেওয়া। আমরা শুধু আপনাদের কাছে এই তথ্য পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম। পাঠকরা এই তথ্যগুলিকে কেবল তথ্যের জন্য গ্রহণ করবেন।