আশাকর্মীদের মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা পাবেন এবং অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের বেতনও ৫০০ টাকা করে বাড়বে।

বৃহস্পতিবার কেরালার অর্থমন্ত্রী কেএন বালাগোপাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রাজ্য বাজেট পেশ করেছেন, যেখানে আশাকর্মীদের (ASHA Workers) সম্মানী ভাতা (ASHA Workers' Honorarium) বাড়ানোর কথা তিনি ঘোষণা করেছেন। আশাকর্মীদের মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা (Anganwadi workers) অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা পাবেন এবং অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের বেতনও ৫০০ টাকা করে বাড়বে। বালাগোপাল সামাজিক সুরক্ষা পেনশনের জন্য ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, কেরলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮.৭ শতাংশ বয়স্ক নাগরিক। সেখানে শুধুমাত্র বয়স্কদের জন্য বাজেট চালু করা হবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের মধ্যে প্রথম।

বরাদ্দ বাড়ছে নানা প্রকল্পে

মুখ্যমন্ত্রীর "কানেক্ট টু ওয়ার্ক" বৃত্তির জন্য আলাদাভাবে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায়, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী শিক্ষিত এবং বেকার যুবকরা এক বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ওয়ানাডের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের বাড়ি হস্তান্তর করা হবে। বাজেটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভিএস অচ্যুতানন্দনের স্মরণে তিরুবনন্তপুরমে একটি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মকে প্রবীন বাম নেতার জীবনের শিক্ষা দেওয়া।

আশাকর্মীদের ভাতা বাড়ানোর দাবি

সম্প্রতি, বাংলায় ভাতা বৃদ্ধি-সহ নানা দাবিতে স্বাস্থ্যভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন বাংলার আশাকর্মীরা। সেই অভিযান করতে গিয়ে পদে পদে পুলিশি হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। ন্যুনতম ১৫ হাজার টাকা ভাতা সহ আট দফা দাবিতে রাজ্যের আশাকর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বাধে। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় স্বাস্থ্য ভবন এবং ধর্মতলা চত্বর। জেলায় জেলায় পুলিশের বিরুদ্ধে আশাকর্মীদের মিছিল আটকানো ও ট্রেনে উঠতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে এবং ধর্মতলায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনকারীরা এগনোর চেষ্টা করলে দু পক্ষের ধস্তাধস্তি বাধে। দিনভর চাপানোতরের পর বিকেলে আশাকর্মীদের ৫ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। যদিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। আশা কর্মীদের আন্দোলনের পরেও সরকার তাদের নির্দিষ্ট হারে মাসিক ভাতা দেওয়ার দাবি মেনে নেয়নি। তবে বকেয়া ভাতা মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে।

এদিকে, আশাকর্মীরা যখন আন্দোলনে পথে নেমেছেন তখন বুধবার সিঙ্গরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের একটু অপেক্ষা করতে বলেছেন। তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, সবুরে মেওয়া ফলে। তাই মনে করা হচ্ছে, আগামী মাসে বাজে আশা কর্মীদের জন্য বড় কিছু ঘোষণা করতে পারে সরকার।