কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর 'বিদেশি মদতপুষ্ট' মন্তব্যে 'ককরোচ জনতা পার্টি' বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ৯৪% ব্যবহারকারী ভারতীয় বলে দাবি করেছেন। এই ডিজিটাল আন্দোলন, জর্জ সোরোস যোগের অভিযোগ এবং NEET-UG পেপার ফাঁসের ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।

নয়া দিল্লি: দেশে NEET-UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া একটা ডিজিটাল আন্দোলন এখন রীতিমতো রাজনৈতিক ঝড়ের চেহারা নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল ফেলে দেওয়া 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে কথার লড়াই চরমে উঠেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই মঞ্চকে পাকিস্তান এবং জর্জ সোরোসের মদতপুষ্ট বলার পর, আন্দোলনের মুখ অভিজিৎ দিপকে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার কেন দেশের ছেলেমেয়েদের 'পাকিস্তানি' বলছে?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মন্ত্রীর কটাক্ষ আর ৯৪% ভারতীয়র 'স্ক্রিনশট'

বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু নাম না করে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে একহাত নেন। তিনি এক্স (X) হ্যান্ডেলে লেখেন, "যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তান আর জর্জ সোরোসের দলবলের মধ্যে নিজেদের ফলোয়ার খোঁজে, তাদের জন্য আমার করুণা হয়। ভারত-বিরোধী গ্যাংয়ের থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার কোনো দরকার নেই।" এই মারাত্মক অভিযোগের পরেই 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেন। দিপকে তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঠিক আগের একটি ভিডিও স্ক্রিন রেকর্ডিং প্রমাণ হিসেবে শেয়ার করেন, যেখানে তাঁর ফলোয়ারদের ডেমোগ্রাফিক তথ্য দেখানো হয়েছে। দিপকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে লেখেন, “আমাদের ৯৪ শতাংশের বেশি দর্শক ভারতীয়। একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কেন ভারতীয় তরুণ-তরুণীদের পাকিস্তানি বলছেন?”

আদালতের এক মন্তব্য থেকে কীভাবে তৈরি হল এই 'ব্যঙ্গাত্মক' সাম্রাজ্য?

এই পুরো আন্দোলনের শুরুটা কিন্তু একটা আদালতের শুনানি থেকে। ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্ত আইনজীবীদের ভুয়ো ডিগ্রি প্রসঙ্গে 'ককরোচ' এবং 'পরজীবী'-র মতো শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণেরা এই শব্দগুলোকেই দেশের চাকরি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি ব্যঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এটি একটি 'ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ মঞ্চ' হয়ে ওঠে। দেখতে দেখতে এই পেজের জনপ্রিয়তা এতটাই বাড়ে যে ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যার নিরিখে এটি বিজেপি এবং কংগ্রেসের মতো দলকেও পেছনে ফেলে দেয়। NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর এই মঞ্চে প্রায় ১০ লক্ষ ছাত্রছাত্রী রেজিস্ট্রেশন করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বড়সড় আন্দোলন শুরু করে।

হঠাৎ উধাও অ্যাকাউন্ট: হ্যাকিং, ব্যান নাকি বড় ষড়যন্ত্র?

রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন অভিজিৎ দিপকে দাবি করেন যে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হতেই সংগঠনের ওপর আক্রমণ শুরু হয়ে যায়। CJP-র মূল ইনস্টাগ্রাম পেজ, দিপকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং তাঁর এক্স হ্যান্ডেল হয় সাসপেন্ড করা হয়েছে অথবা হ্যাক হয়ে গেছে। এমনকি তাঁর ওয়েবসাইটও অফলাইন করে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি প্রাণে মারার হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ। দিপকে আবেগঘন হয়ে বলেন, "ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে, কিন্তু 'নতুন ভারতে' সত্যিটা জানতে চাওয়ার জন্য ককরোচ জনতা পার্টিকেই পিষে দেওয়া হচ্ছে।" আপাতত, "Cockroach is Back" নামের একটি ব্যাকআপ অ্যাকাউন্ট থেকে এই ডিজিটাল লড়াই জারি রয়েছে।