দীর্ঘ দিন ধরেই দেশছাড়া গোল্ডি। সূত্রের খবর কানাডার গোপন আস্তানায় রয়েছে। সেখান থেকেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালায়। 

সলমন খানকে বারবার খুনের হুমকি দেওয়া গোল্ডি ব্রারকে অবশেষে জঙ্গি ঘোষণা করল কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেআইনি কার্যকলাপ(প্রতিরোধ ) আইনের অধীনে অর্থাৎ UAPA এর অধীনে গোল্ডি ব্রারকে জঙ্গি ঘোষণা করা হয়েছে। গোল্ডি নিষিদ্ধ খালিস্তানি সংগঠন বাব্বার খালসা ইন্টারন্যাশানালের সক্রিয় সদস্য। এই সংগঠনের আড়ালে থেকে একাধিক সন্ত্রাসমূলক কাজের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও অমিত শাহের মন্ত্রকের অভিযোগ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গোল্ডি ব্রার-

দীর্ঘ দিন ধরেই দেশছাড়া গোল্ডি। সূত্রের খবর কানাডার গোপন আস্তানায় রয়েছে। সেখান থেকেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালায়। বর্তমানে খালিস্তানি আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে রয়েছে তার নাম। ২০২১ সালে পাঞ্জাবি গায়ক - রাজনীতিবিন সিধু মুসেওয়ালাকে হত্যার মাস্টারমাইন্ড গোল্ডি ব্রার। কানাডাতে বলেই ভারতে একাধিক হামলার ঘটনা পরিচালনা করে সে। তার আসল নাম সতিন্দরজিৎ সিং। যদিও অনেকের দাবি তার আসল নাম সতবিন্দর সিং। তবে গোল্ডি ব্রার নামেই অন্ধকার জগতে পরিচিত। অন্যদিকে কানাডা সরকারেরও মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছে গোল্ডির নাম।

গোল্টি কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইর দলের সক্রিয় সদস্য। বাব্বর খালসার সঙ্গেও যোগ রয়েছে। খুন, অস্ত্র, গোলাবারুদ চোরাচালানের সঙ্গে উগ্রপন্থাকে উস্কে দেওয়ার কাজও করে গোল্ডি।

গোল্ডি মুশেওয়ালাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিল। বলেছিল ২০২২ সালে পঞ্জাবে এক ছাত্রনেতার হত্যার প্রতিশোক নেওয়ার জন্যই গায়ক তথা রাজনীতিবিদকে হত্যা করা হয়েছে। গোল্ডি ব্রার ২০১৭ সালে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে কানাডায় গিয়েছিল। সেখানেই নাশকতামূলক কাজে তার হাতেখড়ি।

গোল্ডি ব্রার পঞ্জাবের মুক্তসারের বাসিন্দা। তার বাবা ছিলেন পঞ্জাব পুলিশের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী। কানাডায় যাওয়ার সময়ও গোল্ডির বিরুদ্ধে বড় কোনও ফৌজদারি মামলা ছিল না। যদিও ছোটখাট হিংসার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কানাডা থেকে ভারতে টাকার বিনিময় খুন, তোলাবাজির ব়্যাকেট চালানোর অভিযোগ ওঠে। খুন ও খুনের চেষ্টার পাশাপাশি তোলাবাজির জন্য প্রায় ৫০টি মামলায় গোল্ডির নাম রয়েছে।

২০২২ সালে গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে প্রথম ইন্টারপোল নিটিশ জারি করা হয়েছিল। তবে মুশেওয়ালাকে হত্যার দায় স্বাকীর করার পরই গোল্ডি লাইমলাইটে চলে আসে।

মুশেওয়ালা ছাড়াও গোল্ডি ফরিদকোট যুব কংগ্রেস নেতা গুরলাল সিং ভুল্লার ওরফে পেহলওয়ান হত্যামামলায় অন্যতম অভিযুক্ত। নিজের খুড়তুতো ভাই গুরলাল ব্রারের হত্যার প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যা বলেও দাবি করা হয়েছে। ২০১৫ সালে বরগাড়ি ধর্মঘট মামলার একজন আসামি হত্যার অভিযোগও রয়েছে গোল্ডির বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে গতবছর থেকেই তদন্ত শুরু করে জাতীয় তদন্ত সংস্থা। এনআইএ বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশানাল ও কানাডার সন্ত্রাসবাদী লক্ষ্মীবীর সিংএর সঙ্গে গোল্ডির সক্রিয় সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেছিল।