হিমাচল প্রদেশের কিন্নরে মাউন্ট লিও পারগিল-২ অভিযানে গিয়ে প্রবল তুষারপাতে আটকে পড়েছিলেন কলকাতার ১২ জন পর্বতারোহী। আইটিবিপি, স্থানীয় পুলিশ ও গ্রামবাসীদের যৌথ চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

কলকাতার মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব 'হিমালয়াজ বেকন'-এর ১২ জনের একটি দল হিমাচল প্রদেশের কিন্নরে অভিযানে গিয়েছিল। তাঁদের লক্ষ্য ছিল মাউন্ট লিও পারগিল-২ শৃঙ্গ জয় করা। কিন্তু প্রবল তুষারপাতের জেরে মাঝপথেই তাঁরা আটকে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করে নাকো গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি), স্থানীয় পুলিশ এবং এলাকার বাসিন্দারা মিলে এই উদ্ধারকাজ চালান। দুর্গম পথ পেরিয়ে তাঁরা আটকে পড়া দলটির কাছে পৌঁছান। আবহাওয়া চরম খারাপ হয়ে যাওয়ায় এবং টানা তুষারপাতের কারণে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল। এর পাশাপাশি দলের কয়েকজন সদস্য হাই-অল্টিটিউড সিকনেস বা উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভুগতে শুরু করেন। বাধ্য হয়ে শৃঙ্গের ঠিক নিচ থেকেই তাঁরা অভিযান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সবার চেষ্টায় অভিযাত্রীদের নিরাপদে নাকো গ্রামে নামিয়ে আনা হয়।

কী জানালেন অভিযাত্রীরা?

পুরো ঘটনার কথা জানাতে গিয়ে দলের এক সদস্য বলেন, শৃঙ্গের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর তাঁদের এক সঙ্গী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপরই তাঁরা ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। বেস ক্যাম্পে ফেরার পর মাঝরাত থেকে শুরু হয় প্রবল তুষারপাত। উপায় না দেখে তাঁরা আইটিবিপি এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই অভিযাত্রী বলেন, "আমরা লিও পারগিল অভিযানে গিয়েছিলাম। সামিটের ঠিক নিচ পর্যন্ত আমরা পৌঁছেও যাই। কিন্তু দলের একজন উচ্চতাজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমাদের ফিরে আসতে হয়। বেস ক্যাম্পে ফেরার পর মাঝরাত থেকে টানা বরফ পড়তে শুরু করে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল সেদিনই নাকো গ্রামে নেমে আসার। কিন্তু পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমরা প্রথমে আইটিবিপি এবং পরে পুলিশকে খবর দিই।"

তিনি আরও জানান, যে হোমস্টেতে তাঁরা ছিলেন, সেখানকার মালিক রাস্তা চেনা দুজন স্থানীয় মানুষকে সাহায্যের জন্য পাঠান। আইটিবিপি-ও মেডিক্যাল টিম নিয়ে সেখানে পৌঁছায়। ওই সদস্যের কথায়, “আমাদের হোমস্টের মালিক স্থানীয় লোক পাঠানোর পরামর্শ দেন, যাঁরা ওই রাস্তা খুব ভালো করে চেনেন। তিনি দুজন নেপালি ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য এগিয়ে দেন, যাতে তাঁরা আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারেন। শেষমেশ আইটিবিপি-র জওয়ানরা মেডিক্যাল টিম নিয়ে সেখানে হাজির হন।”