কৃতীকা পাণ্ডে এশিয়ার ২০২০-এর কমনওয়েল্থে ছোট গল্পের আঞ্চলিক পুরষ্কার  বিজয়ী। ঝাড়খণ্ডের রাঁচির বাসিন্দা কৃতীকা জানিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে দেশে বিশেষত ঝাড়খণ্ডে ঘটে চলা গণপ্রহারের ঘটনাতে তাঁকে তীব্রভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কুসংস্থার আর হিংসার এই সময়ই একটি প্রেমের গল্প লিখেই তিনি বাজিমাত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন একটি গণহত্যার ঘটনা তাঁকে তীব্রভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাই থেকেই তাঁর গল্প 'দ্যি গ্রেট ইন্ডিয়ান টি অ্যান্ড স্নেক'। 


ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা কৃতীকা ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। তাঁর কথায় বইয়ের মধ্যেই বেড়ে ওঠা তাঁর। ছোট থেকেই পড়তে ভালোভাসতে। তিনি জানিয়েছেন গত বেশ কয়ক বছর ধরেই তিনি কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি পুরষ্কার বিজয়ী গল্পগুলি পড়েছে। মাত্র কয়েক হাজার শব্দের মধ্যে বিজয়ীরা তাঁদের মনের ভাব ব্যক্ত করেন তা দেশে অবাক হয়েছেন। আর সেই তালিকায় এবার তাঁর নাম থাকায় তিনি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছেন বলেও জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা তাঁর। কিন্তু পড়া শেষেই যদি তাঁকে এডুকেশন লোনের টাকা ফেরত দেওয়া বা বোনের বিয়ের জন্য মন দিতে হত তাহলে এই গল্প লিখতে পারতেন না। সেই দিক থেকে নিজেকে ভাগ্যবতী বলেও দাবি করেন তিনি। 

কেরলের হাতি মৃত্যু নিছকই দুর্ঘটনা, গুজব না ছড়ানোর আবেদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র ...

২৯ বছরের কৃতীকা জানিয়েছেন তাঁর গল্পর মূল পটভূমি গণপ্রহারে নিহত তাবরেজ আনসারি।সালটা ছিল ২০১৯, সেই সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। আর তখনই তাঁর বাড়ির খুব কাছেই সাঙ্গ হয়েছিল সেই নারকীয় হত্যাকণ্ডা। তাবরেজ আর শাহিস্তা পারভীন ছিলেন সদ্যোবিবাহিত দম্পতি। স্বামীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই   শাহীস্তার জীবন তছনছ হয়েছিল। সবহারানো সেই তরুণীকে সহানুভূতি জানাতে গিয়েই তিনি গল্পটি লিখেছেন বলে জানিয়েছে কৃতীকা পাণ্ডে। 

জ্যোতি বসুর 'জন্য' প্রথম পা রাখা সংসদে, এবার রাজ্যসভায় যাত্রা সনিয়ার 'আবেদনে' ...
কথায় কথায় কৃতীকা জানিয়েছেন তিনি যা দেখেন আর যা তাঁকে নাড়িয়ে দেয় তাই তিনি লিপিবদ্ধ করতে ভালোবাসের। শুধু নারী নয় তাঁর লেখায় গুরুত্ব পায় সমাজও। এর আগে পুশকাট পুরষ্কারের জন্যও মনোনিত হয়েছিল কৃতীকা পাণ্ডের নাম। তবে কমনওয়েলথ পুরষ্কারের জন্য তিনি পিছনে ফেলে দিয়েছেন ভারতীয় লেখক দীনেশ দেবারাজন ও বাংলাদেশের নাফিসা এ ইকবালকে।