সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা মুখে বললেও পূর্ব লাদাখ সেক্টরে কার্যত যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছে চিনের পিপিলস লিবারেশ আর্মির সদস্যরা। ভারত-চিন অষ্টম পর্যায়ের সামরিক বৈঠকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল দুই দেশের সরকার। এপ্রিল মাসের আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার জন্যেও রাজি হয়েছিল  কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। সীমান্ত ক্রমশই উত্তাপ বাড়াচ্ছে চিন। আকসাই চিনসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় গতিবিধি বেড়েছে চিনা সেনার। 

সূত্রের খবর, গত ৩০ দিন ধরে অধিকৃত আকসাই চিনে বেশ কয়েকটি এলাকায় রাস্তা তৈরি করেছে চিনের পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্যরা। তৈরি হয়েছে বেশ কিছু অবকাঠামো। এগুলি পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দেয় চিন ৩,৪৮৮ কিলোমিটার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। রীতিমত দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতিত নিচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি নবম পর্যায়ের সামরিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ভারত ও চিনের সেনা বাহিনীর কর্তাদের। সেই বৈঠকে আবাকও সেনা সরিয়ে নেওয়া নিয়ে আলোচনা হবে। 

এক প্রবীণ সামরিক কর্তার কথায় কারাকোরাম পাস থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সমর লুঙঅগপাতে ১০টিও বেশি সেনা বাঙ্কার তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি সেনা ছাউনিও। এই এলাকার খুব কাছেই রেচিংলা পাস ও সাজুম পাহাড়। দৌলতবাগ ওল্ডি থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব কিজিলজিলগায় সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে চিন। 

৩০ সেকেন্ডে মাউথওয়াশেই জব্দ করোনার জীবাণু, প্রতিষেধকের আগেই সুখবর এল করোনা বিশ্বে .

জম্মুর টোলপ্লাজায় ভোররাতে জঙ্গি-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ৪, দেখুন সেই ভিডিও .

সাজুম পাহাড় ও সমর লুঙ্গপাত এলাকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সেনা সূত্রে খবর এই এলাকাগুলিতেও শক্তি বাড়িয়ে চিন। কিন্তু নয়া দিল্লি এখনও মনে করে করে বেজিং খুব তাড়াতাড়ি সেনা সরিয়ে নেবে উত্তপ্ত এলাকাগুলি থেকে। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। সেনা সূত্রের দাবি করা হচ্ছে পূর্ব লাদাখের বিস্তীর্ণ এলাকায় চিন গোটা শীতকালেই সেনা মোতায়েন রাখবে। সেনা সূত্রে খবর চুসুলের দক্ষিণে শেনডং থেকে স্পাঙ্গুর গ্যাপের রাস্তায় ৬০টিরও বেশি  সমর যান চলাচল করছে। লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা এলাকায় চিন নজরদারী কেন্দ্র স্থাপন করেছে। চিনা ট্যাঙ্কও লক্ষ্য করা গেছে গোব্যাক এলাকায়। যা এলএসি থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। আকসাই চিনের বেশ কয়েকটি এলাকায় নতুন করে সেনা মোতায়েন করছে চিন। প্যাংগং লেকের চার নম্বর আঙুল থেকে ৬ নম্বরে ফিরে গেছে চিনা সেনা। একটি সূত্র বলছে চিনা সেনা ৬ নম্বর আঙুল থেকে ৮ নম্বর আঙুল পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেনা কর্তা মনে করছে কালা পাহাড় অধিগ্রহণ করার চেষ্টা করছে লাল ফৌজ। দোপসাং সমভূমি এলাকার বেশ কয়েকটি এলাকাতেও শক্তি বাড়িয়ে চিন।