ফের সীমান্ত সমস্যা মেটাতে বৈঠকে ভারত ও চিন। বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেন ভারত ও চিনের সীমান্ত সংক্রান্ত মেকানিজমের সদস্যেরা। বৈঠকে বেজিংয়ের গলায় সমঝোতার সুর শোনা গিয়েছে বলেই দাবি করছে দিল্লি। লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহার করার উদ্দেশ্যে যৌথভাবে কাজ করবে ভারত ও চিন। ভবিষ্যতে সীমান্ত সংক্রান্ত অন্য সমস্যাগুলির সমাধানে আলোচনার মাধ্যমে বিশেষ বৈঠকে বসবে দুই দেশ। বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে এমনটাই জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব।

লাদাখে ভারত-চিন সংঘর্ষের পরে এ নিয়ে চতুর্থবার আলোচনায় বসলেন এই মেকানিজমের সদস্যেরা। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন যুগ্মসচিব নবীন শ্রীবাস্তব। চিনের তরফে নেতৃত্ব দেন সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের সীমান্ত সংক্রান্ত দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল হং লিয়াং। বৈঠকের পরে চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় দু’দেশের সেনার পিছু হটতে যে পথে এগোচ্ছে তা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে দু’দেশই। 

আরও পড়ুন: করোনা ভ্যাকসিন 'স্পুটনিক ভি'র উৎপাদনে ভারতের সহযোগিতা চাইছে রাশিয়া, দিল্লির কাছে এল প্রস্তাব

এরপরেই প্রতিক্রিয়া আসে সাউথ ব্লকের পক্ষ থেকে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব  বলেন, “দু’দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া আলোচনার মাধ্যমে লাদাখ সীমান্তে ফৌজ প্রত্যাহারের দিশায় পদক্ষেপ করবে চিন। তারা জানিয়েছে, দু’পক্ষের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত বিবাদের সমাধানে নির্ধারিত প্রটোকল ও চুক্তি মেনেই কাজ করা হবে। সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে দুই দেশই কাজ করছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি।”

এর আগে দু’দেশের মধ্যে পাঁচ দফা কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠকও হয়। তবে বিদেশমন্ত্রকের এক আমলার জানিয়েছেন, জুলাইয়ের ১৪ তারিখ চতুর্থ কোর কমান্ডের স্তরের বৈঠকের পর থেকেই দেপসাং, হট স্প্রিং, গোগোরা ও প্যাংগং লেকের উত্তর ও দক্ষিণ পাড় থেকে লালফৌজ সরায়নি চিন। তাই রাজনৈতিক  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনের বিদেশমন্ত্রক  সেনা অপসারণ সম্পূর্ণ শেষ করা হয়েছে বলে বার বার যে দাবি করছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং বাস্তবের  সঙ্গে  তার কোনও মিল নেই। 

আরও পড়ুন: করোনার গ্রাস থেকে বাঁচলো না জগতবিখ্যাত বাইক সংস্থাও, ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত হার্লে ডেভিডসনের

এদিকে ভারতের সঙ্গে চিনের লাদাখ নিয়ে চাপা উত্তেজনার মাঝেই পাক বিদেশমন্ত্রীর বেজিং সফরে যাওয়ার তথ্য উঠে আসছে। করোনা সংক্রমণের জন্য যখন বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বৈঠক ভার্চুয়ালি ঘটছে, সেখানে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি নিজে কেন এই সফরে যাচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

 

 

সূত্রের খবর, লাদাখ পরিস্থিতি নজরে রেখে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রজেক্টগুলি নিয়ে চিনের সঙ্গে পাকিস্তান আলোচনায় বসবে। সূত্রের খবর, লাদাখ পরিস্থিতি নজরে রেখে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রজেক্টগুলি নিয়ে চিনের সঙ্গে পাকিস্তান আলোচনায় বসবে। এছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত ও চিনা প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের পাক সফর নিয়েও আলোচনা হতে চলেছে এই বৈঠকে।