লাদাখের চুসুলে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য সমারিক পর্যায়ের বৈঠকে বসেছেন ভারত ও চিন। কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক এটি। পূর্ব লাদাখ সীমান্ত সমস্যা সামাধানে এই নিয়ে পরপর তিন বার সামরিক বৈঠকে মুখোমুখি হল দুই দেশ। সূত্রের খবর দুই দেশেরই আলোচনার মূল বিষয় হল সীমান্ত শান্তি ফিরিয়ে আনা। এর আগেই এই বিষয়ে দুই দেশ ঐক্যমত্ত প্রকাশ করেছে। কিন্তু তারপরেও সীমান্ত থেকে সেনা সরায়নি  চিন। উল্টে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবার রীতিমত তৎপরতা বাড়িয়েছে দুই দেশ। সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় চিনা সেনার বাঙ্কারের ছবিও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে হাতে হাত রেখে বসে থাকতে নারাজ ভারত। সেনাবাহিনী সূত্রের খবর পূর্ব লাদাখ সীমান্ত সব থেকে খারাপ পরিস্থিতির জন্য তৈরি রয়েছে ভারতীয় সেনা। সবরকম পরিস্থিতি মোকাবিলা বলা হবে। সেনা সূত্রে খবর সেই জন্য লাদাখ সীমান্তে মোতায়ের করা হয়েছে ৬টি টি-৯০ ট্যাঙ্ক ভীষ্ম। 

গালওয়ান উপত্যকা ঘাঁটিতে পাঠান হয়েছে টি-৯০ ট্যাঙ্ক গুলি। এটি ক্ষেপণাস্ত্র ফায়ারিং ট্যাঙ্ক। পাশাপাশি পতিপক্ষের ক্ষেপণাত্র গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার উপর নজর রাখতেই এই ট্যাঙ্কগুলি পাঠান হয়েছে বলেই সেনা সূত্রের খবর। চিন সেনা সংখ্যা বাড়ানোর পরই এই ট্যাঙ্কগুলিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। চুসুলে যেখানে ভারত চিন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বৈঠক হচ্ছে সেখানে দুটি ট্যাঙ্ক মোতায়েন করা হয়েছে। সামরিক সূত্রের খবর স্পেনগুর গ্যাপ থেকে ১৫৯৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সীমান্ত রক্ষার কাজে এই দুটি ট্যাঙ্ক ব্যবহার করা যাবে বলেই মনে করছে ভারতীয় বাহিনীর কর্তারা। 

সেনা বাহিনীর কর্তাদের কথায় চিনা সেনাকে আর জায়গা ছাড়া হবে না। পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্যরা আরও একটু এগোলেই প্রতিহত করা হবে। গালওয়ানে তাপমাত্রার পারদ নামতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই নদীর জলের তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে গেছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পাশ্ববর্তী এলাকায়। শীতের মরশুম এলে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হবে বলেও মনে করছেন সেনা কর্তারা। 

সীমান্তের দিকে কড়া  নজর রাখার জন্য বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিন মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনাদেন লাদাখ সীমান্তে মোতায়েন করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনাদের মোকাবিলায় তৈরি রয়েছে ভারতও। সময় এলে পাল্টা প্রত্যাঘাতের পথ থেকে ভারত পিছিয়ে আসবে না বলেও দাবি করেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনা কর্তা।